মাত্র সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা সম্বল করে মুম্বাই এসেছিলেন সোনু সুদ। প্রথম দিকে আরও ছয়জনের সঙ্গে থাকতেন একই কামরায়।
খরচ জোটাতে কাজ নেন বেসরকারি অফিসে। চাকরির কারণে ঘুরতে হতো মুম্বাইয়ের নানা প্রান্তে। মাসে বেতন পেতেন সাড়ে চার হাজার রুপি। লোকাল ট্রেনই ছিল তার ভরসা। আর আজ সোনু সুদের গ্যারেজে রয়েছে পোর্শে আর অডি কিউ’র মতো বিলাসবহুল গাড়ি।
সোনু অতীতের ঘামরক্ত ঝরা দিনগুলো কখনো ভোলেননি। লকডাউনে ভারত জুড়ে অভিবাসী শ্রমিকদের দুর্দশা দেখে হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারেননি তিনি। কয়েক হাজার শ্রমিককে বাড়ি পৌঁছার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। হাজার হাজার মানুষকে দিয়েছেন খাবার।
পাঞ্জাবের মোগা শহরে সোনুর জন্ম ১৯৭৩ সালের ৩০ জুলাই। তিনি নাগপুরের যশবন্তরাও চহ্বন কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে পাশ করেন। কিন্তু ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারের পেশায় না গিয়ে মডেলিং হয়ে পা রাখেন অভিনয়ে।
১৯৯৯ সালে প্রথম অভিনয়, তামিল ছবি ‘কাল্লাঝাঘার’-এর পর দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রিতে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন সোনু। বলিউডে প্রথম অভিনয় ২০০২ সালে। ‘শহিদ-ই-আজম’ ছবিতে সোনু ছিলেন ভগৎ সিংহের ভূমিকায়। তবে পরিচিত পান মণিরত্নমের ‘যুবা’ ছবিতে, সেখানে অভিষেক বচ্চনের ছোট ভাইয়ের ভূমিকায় ছিলেন। বলিউডে উল্লেখযোগ্য অন্য ছবি হলো সিং ইজ কিং, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোস: দ্য ফরগটেন হিরো, দাবাং, আশিক বনায়া আপনে, গব্বর ইজ ব্যাক ও সিম্বা। তবে বলিউডের তুলনায় দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রিতে সোনু অনেক বেশি জনপ্রিয়।
পরিবারে রয়েছে স্ত্রী সোনালি এবং দুই ছেলে আয়ান ও ঈশান। সোনুর বাবা শক্তি সাগর সুদ ব্যবসায়ী। মা সরোজ সুদ শিক্ষিকা।
সোনু মুম্বাইয়ে আটকে পড়া ভিন রাজ্যের অনেক মানুষকে ঘরে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন সম্প্রতি। বিষয়টা হঠাৎ করেই শুরু হয় টুইট দিয়ে। একাধিক ব্যক্তি সোনু সুদকে ট্যাগ করে টুইট করে জানান, তারা মুম্বাইয়ে আটকে পড়েছেন। তাদের বাড়ি ফেরার ব্যবস্থা করলে ভালো হয়। এমন আরও কয়েক জনের টুইটের উত্তর দেন সোনু সুদ। তিনি একাধিক বাসের ব্যবস্থা করেন মুম্বাই থেকে তাদের বাড়ি ফেরার জন্য। নিজে দাঁড়িয়ে থেকে সেই সব ব্যবস্থা তদারকি করেন।
ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের অনেকেই সোনু সুদের এই উদ্যোগের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আর তিনি এখন জাতীয় নায়ক।