লিবিয়ায় অপহরণকারীদের গুলিতে নিহত গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার সুজন মৃধার (২০) বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। নিহতের পরিবারের স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। সন্তানের লাশ ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আকুতি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী।
উপজেলার গোহালা ইউনিয়নের বামনডাঙ্গা গ্রামের কৃষক কাবুল মৃধার ছেলে সুজন মৃধা। একই ইউনিয়নের যাত্রাবাড়ী গ্রামের রব মোড়লের মাধ্যমে তিনি ছেলেকে বিদেশ পাঠান। আর এ জন্য তিনি কৃষি জমি বন্ধক রেখে ও মহাজনের কাছ থেকে ঋণ করে দালালকে ৩ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা দেন।
গত জানুয়ারি মাসে পরিবারের অভাব মেটাতে ইন্টারমিডিয়েটের ছাত্র সুজন লিবিয়ার উদ্দেশে বাড়ি ছাড়েন। সেখানে ৩৫ হাজার টাকা মাসিক বেতন দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর তাকে কোন কাজ দেয়নি দালাল চক্র।
গত ২৬ মে মানব পাচারকারীরা সুজনের কাছে আরও ১০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে ভয়েস কল পাঠাতে বলে দেশে। ওই কলে সুজনকে মারপিট করার ভয়েস পাঠানো হয়। তখন সুজনের বাবা তাদের কাছে ১ জুন পর্যন্ত সময় চান। কিন্তু তার আগেই ওরা সুজনকে গুলি করে হত্যা করে।
ওই দেশে অবস্থানকারী বাংলাদেশি আমির দালালের মোবাইল ফোন থেকে এই ভয়েস কল পাঠানো হয় এবং সোমালিয়ায় আহমেদ মোহাম্মদ আদম সালামের ব্যাংক হিসেবে মুক্তিপণের টাকা পাঠাতে বলা হয়।
নিহতের মা চায়না বেগম (৪৫) কান্নাজনিত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলেকে আমার বুকে ফিরায় দাও। আমার ছেলেকে দালালরা নিয়ে গিয়ে ১৭ দিন কোন খাবার দেয়নি। মারপিট করেছে। পরে মুক্তিপণ দাবি করে গুলি করে হত্যা করেছে। আমি আমার সন্তানের লাশ চাই। আর দালালদের ফাঁসি চাই।
একই দাবি জানিয়ে ওই গ্রামের জয়নাল সরদার, লিটন মৃধা, আকিজুল ইসলাম বাবুল বলেছেন, এই দালাল চক্রের হাতে গোহালা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের আরও বেশ কিছু যুবক লিবিয়ায় বন্দি আছে।
অপরদিকে, একই উপজেলার রাঘদী ইউনিয়নের সুন্দরদী গ্রামের মো. কালাম শেখের ছেলে ওমর শেখ (২২) ওই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় লিবিয়ার ত্রিপলি হাসপাতালে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন। কাঠুরিয়া বাবা পরিবারে একটু সচ্ছলতার জন্য ছেলেকে ৪ লাখ ৫ হাজার টাকা দিয়ে একই গ্রামের দালাল লিয়াকত মোল্লার মাধ্যমে ছেলেকে লিবিয়া পাঠান।
জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা জানান, আমরা বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে জেনেছি। খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে ইউএনও-কে পাঠানো হয়েছে। আমরা দালাল চক্র ধরতে চেষ্টা চালাচ্ছি। আর এ জন্য তিনি সবার সহযোগিতাও কামনা করেন।