ঢাকামুখো মানুষের ঢল নৌঘাটে

ভাঙাপথে ভোগান্তি ফেরিতে হুড়োহুড়ি

গণপরিবহন চালু না হলেও ঈদ শেষে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন অফিস খোলায় ভাঙাপথে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় কর্মস্থলে ফিরতে হচ্ছে মানুষকে। এতে কয়েক দিন ধরে মানুষের ঢল নেমেছে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ও কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়া নৌঘাটে। আজ রবিবারও অনেক অফিস খুলবে। এতে গতকাল শনিবার দিনভর দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের হাজারো মানুষকে ফেরিতে উঠতে অনেকটা হুড়োহুড়ি করতে দেখা যায়। জীবিকা রক্ষায় মানুষ করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি উপেক্ষা করে গাদাগাদি করে ফেরি পার হয়। এদিকে পদ্মায় পানি বাড়ায় ফেরি চলাচল মাঝেমধ্যে কিছুটা ব্যাহত হয়। 

আমাদের মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, গতকাল সকাল থেকেই পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ায় কর্মস্থলমুখো মানুষের উপচেপড়া ভিড় ছিল। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে মানুষকে। ছোট ও ব্যক্তিগত গাড়িতে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছতে হচ্ছে যাত্রীদের। রিকশা, ভ্যান, অটোবাইক, পিকআপ, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেলে ঝুঁকি নিয়েই ফেরেন হাজারো মানুষ।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্র্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত ডিজিএম মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ১৬টি ফেরি প্রস্তুত রয়েছে। যানবাহনের চাপ অনুযায়ী ফেরির সংখ্যা বাড়ানো ও কমানো হচ্ছে।

আমাদের মাদারীপুর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, গতকাল কাঁঠালবাড়ী ফেরিঘাটেও ঢাকামুখো মানুষের ঢল নামে। ভাঙাপথে ঘাটে এলেই প্রতিযোগিতা দিয়ে ফেরিতে উঠতে দেখা গেছে মানুষকে। যাত্রীদের পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়ির চাপও ছিল। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঘাটে ভ্রাম্যমাণ আদালত, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। এই নৌপথে চলা ১৭টি ফেরির মধ্যে ১৫টি গতকাল চলে।

বিআইডব্লিউটিসি কাঁঠালবাড়ী ঘাটের ব্যবস্থাপক আব্দুল আলীম বলেন, আজ (গতকাল) বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঢাকামুখো মানুষের ভিড় তীব্র হতে থাকে। বিভিন্ন জেলার মানুষ মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল, ইজিবাইকসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে ভেঙে ভেঙে কাঁঠালবাড়ী ঘাটে পৌঁছান। পদ্মায় পানি বাড়ায় ফেরি চলাচল মাঝেমধ্যে কিছুটা ব্যাহত হয়। ফেরিতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গাড়ি পার করা হয়।

ঘাটে দায়িত্ব পালন করা মাদারীপুরের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আবির হোসেন বলেন, এদিন সকাল থেকেই ফেরিতে হুড়োহুড়ি করে উঠে মানুষ পদ্মা পার হন। ফেরিঘাটে যাত্রী হয়রানি যাতে না হতে হয়, সেজন্য আমরা তৎপর রয়েছি।