করোনাভাইরাস সংক্রমণ সন্দেহে নমুনা দিয়ে ফলাফলের অপেক্ষা না করেই ভাড়া করা মাইক্রোযোগে নীলফামারী থেকে নারায়ণগঞ্জে চলে গেছেন এক যুবক। সেই মাইক্রোতে তার স্ত্রীসহ ছিল মোট ১৩ জন যাত্রী।
শনিবার তার নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে করোনা ধরা পড়ে।
শনিবার সন্ধ্যায় তার রিপোর্ট পজিটিভ আসে বলে নিশ্চিত করেছেন জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু হাসান মো. রেজওয়ানুল কবির।
২৬ বছর বয়সী ওই যুবকের বাড়ি নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার খুটামারা ইউনিয়নের তহশীলদার পাড়ায়। তিনি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের একটি টেক্সটাইল মিলে কর্মরত।
শনিবার রাতে ওই যুবকের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, কর্মস্থল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে গত ১০ মে ঈদ করতে জলঢাকার বাড়িতে আসেন। এর কিছুদিন পর তার শরীর ব্যথা হলে গত ২৩ মে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ তার নমুনা সংগ্রহ করে। এর তিন দিন পর গত ২৬ মে ঐ যুবক তার স্ত্রীকে সাথে নিয়ে একটি মাইক্রো ভাড়া করে কর্মস্থলে চলে যান।
তিনি আরও জানান, ফলাফল আসতে দেরি হওয়ায় তিনি স্বাস্থ্য বিভাগকে না জানিয়ে জলঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে চলে আসেন। তারা স্বামী-স্ত্রীসহ ঐ মাইক্রোতে মোট ১৩ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানান তিনি।
বর্তমানে তিনি সুস্থ রয়েছেন বলে ফোন কেটে দেন।
এ বিষয়ে জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু হাসান মো. রেজওয়ানুল কবির জানান, গত ২৩ মে ওই যুবকের নমুনা সংগ্রহ করে রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন এ- রেফারেল সেন্টারে পাঠানো হয়। শনিবার বিকেলে তার ফলাফল পজিটিভ আসায় স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন তার বাড়িতে গেলে যুবকসহ তার বাবা-মা কাউকে পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেশীরা জানান, ওই যুবক নারায়ণগঞ্জ চলে গেছেন। এ সময় তার বাড়ির অন্যান্য সদস্যরাও বাড়ি থেকে পালিয়ে যান।
পরে স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন দুটি বাড়ি লকডাউন করে সেখানে গ্রাম পুলিশ নিয়োগ করে ফিরে আসেন তারা। আজ রবিবার তার বাবা-মায়ের স্যাম্পল নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, শনিবার ১৯ জনসহ জেলায় এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্ত হলেন ১২৭ জন। এদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন মোট ৩৮ জন। আক্রান্তরা জেলার বিভিন্ন হাসপাতালের আইসোলেশনে রয়েছেন। এছাড়াও মৃত্যু হয়েছে দুই জনের।