কারাগারে ‘সুইসাইড ওয়াচে’ কৃষ্ণাঙ্গ হত্যাকারী সেই পুলিশ

যে কারাগারে শতশত অপরাধীকে নিজে ঢুকিয়েছেন এখন সেখানেই তার ঠিকানা। নতুন ঠিকানায় শ্বেতাঙ্গ পুলিশ অফিসার ডেরেক চাওভিন এতটুকু স্বস্তিতে নেই। আত্মহত্যা প্রবণতা না থাকলেও রাতদিন ২৪ ঘণ্টা ‘সুইসাইড ওয়াচে’ থাকতে হচ্ছে তাকে।

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের জর্জ ফ্লয়েড নামের ৪৬ বছর বয়সী এক কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তিকে গত সোমবার হত্যা করেন চাওভিন। ফেঁসে যান এক প্রত্যক্ষদর্শীর ধারণ করা ১০ মিনিটের ভিডিও ফুটেজে। সেখানে দেখা যায়, গলায় হাঁটু চেপে ধরায় ফ্লয়েড নিঃশ্বাস না নিতে পেরে কাতরাচ্ছেন এবং বারবার চাওভিনকে বলছেন, ‘আমি নিঃশ্বাস নিতে পারছি না’।

ভিডিও ভাইরাল হলে চাওভিন চাকরি হারান। ইতিমধ্যে ‘থার্ড ডিগ্রি’ মার্ডারের অপরাধে অভিযুক্তও হয়েছেন।

ক্যালিফোর্নিয়া-ভিত্তিক ট্যাবলয়েড নিউজ ওয়েবসাইট টিমএমজেড নিজস্ব সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, চাওভিনকে শুক্রবার রাতে কারাগারে নেয়া হয়। বহুল আলোচিত মামলার আসামিদের যে সেলে রাখা হয়, তিনি সেখানে আছেন।

পুরো সেল ক্যামেরা দিয়ে ঘেরা। ১৫ মিনিট পরপর দায়িত্বরত কর্মকর্তা ভিডিও ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখছেন।

টিএমজেডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চাওভিন কারাগারে ঢোকার সময় কারো চোখে চোখ রাখেননি। এসময় খালি গায়ে ছিলেন। পরীক্ষা শেষে জেলের নির্ধারিত পোশাক পরানো হয় তাকে।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, চাওভিনের ভেতর আত্মহত্যা প্রবণতা না থাকলেও তারা কোনো ঝুঁকি নিতে চান না। হেফাজতে থাকা অবস্থায় যেন কিছু না হয়, সেটি নিশ্চিত করতে চান তারা।

খুনের মতো অপরাধ করায় ডেরেক চাওভিনের স্ত্রী কেলি চাওভিন ইতিমধ্যে তাকে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়েছেন।

২০১৮ সালে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের সেরা সুন্দরী নির্বাচিত হওয়া কেলি চাওভিন তার আইনজীবীর মাধ্যমে ফ্লয়েডের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন।

আইনজীবী বলেছেন, ‘সন্ধ্যায় আমি কেলির সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি ভেঙে পড়েছেন।’

ফ্লয়েডের মৃত্যুর পর আমেরিকায় তীব্র আন্দোলন শুরু হয়েছে। কৃষ্ণাঙ্গদের পাশাপাশি অনেক শ্বেতাঙ্গও এই আন্দোলনে সামিল।