রূপগঞ্জে পোশাক শ্রমিকদের ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে বিক্ষোভ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বিনা পারিশ্রমিকে ১৫০ ঘণ্টা কাজ করানোর চেষ্টার প্রতিবাদে বে-ক্রিয়েশন নামে একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন।

রবিবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার কর্ণগোপ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা প্রায় ২ ঘণ্টা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে রাখায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষ্যদর্শী ও বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা অভিযোগ করে জানান, উপজেলার কর্ণগোপ এলাকায় অবস্থিত বে-ক্রিয়েশন নামের পোশাক কারখানায় প্রায় ১২’শ শ্রমিক কাজ করেন। কারখানার বন্ধ থাকাকালীন সরকারি নিয়ম অনুযায়ী মালিকপক্ষ শ্রমিকদের ৬০ শতাংশ বেতন পরিশোধ করেন।

ঈদের ছুটির পর কারখানা চালু হওয়ার পর মালিকপক্ষ নিজেদের বন্ধের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে শ্রমিকদের বিনা পারিশ্রমিকে অতিরিক্ত ১৫০ ঘণ্টা কাজ করতে বলেন। শ্রমিকরা বিনা পারিশ্রমিকে অতিরিক্ত কাজ করতে অপারগতা প্রকাশ করলে রিপন হাজ্বী নামে স্থানীয় এক শ্রমিক নেতা কারখানার ভেতরে প্রবেশ করে শ্রমিকদের মারধর করে।

পরে কারখানার অন্যান্য শ্রমিকরা ক্ষিপ্ত হয়ে কারখানার ভেতরে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা কারখানায় থেকে বের হয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।

এ সময় শ্রমিকরা ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত প্রায় ২ ঘণ্টা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। এতে করে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়ে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়তে হয়। 

শ্রমিকরা অভিযোগ করে আরও জানান, কারখানার মালিকপক্ষ করোনাকালীন সময়ে শ্রমিকদের সুরক্ষার জন্য কোনো প্রকার সুরক্ষার ব্যবস্থা রাখেনি। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়েই শ্রমিকদের কারখানায় কাজ করতে হচ্ছে।

বে-ক্রিয়েশন পোশাক কারখানার ব্যবস্থাপক আব্দুস সালাম দেশ রূপান্তরকে জানান, শ্রমিকদের সকল দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। শ্রমিকদের সুরক্ষার জন্য সকল ব্যবস্থা কারখানার ভেতরে রয়েছে। 

কাঁচপুর ইন্ডাসট্রিয়াল পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক আলমগীর হোসেন দেশ রূপান্তরকে জানান, খবর পেয়ে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

পরে মালিকপক্ষ শ্রমিকদের সকল দাবি মেনে নিয়ে শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নিয়ে কাজে যোগ দেন।