পঞ্চগড়ে নমুনা দিয়ে ঢাকায় ফিরে জানলেন করোনা পজিটিভ

ঢাকার সাভার এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় জুনিয়র টেকনিশিয়ান হিসেবে কর্মরত পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার ২৩ বছর বয়সী এক তরুণ। গত ২৩ মে পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে গ্রামের বাড়িতে ফিরেছিলেন তিনি। এরপর স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে তাকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছিল।

গত ২৬ মে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল তার। ৩০ মে সন্ধ্যায় করোনা পজিটিভ শনাক্ত হওয়ায় বাড়িতে খোঁজ নিতে গেলে ওই তরুণ না জানিয়েই ঢাকায় চলে গেছেন বলে জানতে পারে আটোয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

রবিবার সকালে সিভিল সার্জন ডা. মো. ফজলুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আটোয়ারী উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের একটি গ্রামের বাসিন্দা ওই তরুণ গত ২৯ মে রাতে একটি মাইক্রোবাসযোগে গ্রামের বাড়ি থেকে ঢাকায় ফেরেন। এমনকি ৩০ মে (শনিবার) সাভারে কর্মস্থলে যোগদানও করেন তিনি। ওই দিন সন্ধ্যায় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারাল সেন্টারের প্রদত্ত করোনা পরীক্ষার ফলে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয় ওই তরুণের। এরপর তাকে বাড়িতে না পেয়ে মুঠোফেনে যোগাযোগ করে আটোয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

তিনি ঢাকায় আছেন বলে জানতে পেরে সেখানে তাকে বাড়িতে থেকেই স্বাস্থ্য বিধি মেনে চিকিৎসা নেওয়ার পরমর্শ দেন চিকিৎসকেরা।

তবে বাড়িতে আসার পর এবং ঢাকায় যাওয়া পর্যন্ত ওই তরুণ কার কার সঙ্গে মিশেছেন তা খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে আটোয়ারী উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ।

 ইতোমধ্যে আটোয়ারী উপজেলায় তার বাড়ি লকডাউন করেছে উপজেলা প্রশাসন। সেই সঙ্গে ওই তরুণের কর্মস্থলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

রবিবার সকালে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হওয়া ওই তরুণ মুঠোফোনে বলেন, আমার কোন শারীরিক অসুস্থতা নাই। বাড়িতে ফেরার আগে ঢাকায় একবার করোনা পরীক্ষা করিয়েছিলাম তখন নেগেটিভ আসায় আমি মনে করেছিলম কোনো সমস্যা নেই। বাড়িতে ফেরার পর ২৬ তারিখে নমুনা দিয়েছি। শরীরে তেমন সমস্য না থাকায় ২৯ তারিখে একটি মাইক্রোবাসযোগে ঢাকায় ফিরেছি। ৩০ তারিখে অফিসের কাজে যোগ দিয়েছি, কিছুক্ষণ অফিসে ছিলাম। আগে জানলে অফিসে যেতাম না। তবে সন্ধ্যার পর আটোয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে আমাকে মুঠোফোনে জানানো হয়েছে যে আমার করোনা পজিটিভ। এখন চিকিৎসকের পরমার্শ অনুযায়ী সাভারের বাসায় অবস্থান করছি। ঢাকায় ফেরার সময় ওই মাইক্রোবাসে আরো পাঁচজন যাত্রী ছিলেন বলে তিনি জানান।

আটোয়ারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন সুলতানা বলেন, নমুনা দিয়ে কাউকে না জানিয়ে ঢাকায় চলে যাওয়া করোনা পজিটিভ ওই তরুণের বাড়ি ইতোমধ্যে লকডাউন করা হয়েছে। এছাড়া বাড়িতে এসে তিনি কার কার সঙ্গে মিশেছেন এবং যে মাইক্রোবাসে গেছেন তার চালকসহ অন্যদের খুঁজে বের করে কোয়ারেন্টিনে রাখার প্রক্রিয়া চলছে। সেই সঙ্গে ওই তরুণের কর্মস্থলের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

সিভিল সার্জন ডা. মো. ফজলুর রহমান জানান, এ পর্যন্ত জেলায় ১২১৯ জনের নমুনা সংগ্রহ করার পর ১০৪৬ জনের রিপোর্ট এসেছে তার মধ্যে ৬৮ জনের করোনা পজিটিভ এসেছে। ইতিমধ্যে ১২ জন করোনা থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন এবং দুইজনের করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে। অন্যরা প্রাতিষ্ঠানিক ও হোম আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসাধীন আছেন।