‘এক মাসের মধ্যে দুইবার কইরা বাড়ি সরাইলাম। বাড়ি সরাইয়া মাজা সোজা করবার পাই না আবার নদী আইসা ধরে। একটু বাতাস ওঠলেই নদী ভাইঙা চুরমার কইরা ফেলাইয়া দেয়। আইজকা এইহানে, কাইলা ওইহানে করতে করতে আমাগো এহন নদীর মধ্যে ভাইসা যাবার অবস্থা হইছে। আর কতকাল এইভাবে কষ্ট করমু?’
যমুনার ভাঙনে সবকিছু হারিয়ে হতাশ কণ্ঠে কথাগুলো বললেন জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের খোলাবাড়ির চর এলাকার ষাটোর্ধ্ব রহিম উদ্দিন।
ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নেওয়া একই এলাকার সোনা মিয়া (৫০) বলেন, ‘গত বছর বন্যায় আমার বাড়িঘরসহ ৩০ বিঘা সম্পত্তি যমুনায় ভাইঙা নিয়া গেছে। এ বছর বন্যা আসার আগেই বাড়িঘর ভাইঙা নিয়া গেল। এহন সরকার কোনো ব্যবস্থা না নিলে আমাগো আর বাঁচন নাই।’ গত রবিবার দেওয়ানগঞ্জের ভাঙনকবলিত খোলাবাড়ির চর, ডাকের চর, বড়খাল এলাকা ঘুরে জানা যায়, এ বছর যমুনার পানিবৃদ্ধির সঙ্গে দেখা দেয় নদীভাঙন। গত মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে এ পর্যন্ত চিকাজানি ইউনিয়নের খোলাবাড়ির চর থেকে চুকাইবাড়ী ইউনিয়নের ফুটানি বাজার পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকার ৭ শতাধিক পরিবারের বাড়িঘর, ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। গত এক সপ্তাহেই বিলীন হয়েছে ২ শতাধিক বাড়ি। ভাঙনের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি খোলাবাড়ির চর এলাকায়। বাড়িঘর ফসলি জমির পর যমুনার ভাঙনে বিলীন হয়েছে ওই এলাকার বাজার ও পাকা সড়কের কিছু অংশ। হুমকির মুখে রয়েছে বাহাদুরাবাদ ঘাট নৌ থানা। তীব্র ভাঙন চলছে বড়খাল ও ডাকের চর গ্রামেও।
ভাঙন ঠেকাতে খোলাবড়ির চর বাজার এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। তবে তা কাজে আসছে না বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা। এখনই ভাঙন রোধ করা না গেলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে খোলাবাড়ির চর বাজার, বাহাদুরাবাদ ঘাট নৌ থানা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। যমুনার ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি তাদের।
খোলাবাড়ির চর এলাকার মো. জাকারিয়া ও খোরশেদ আলম জানান, গত কয়েক বছরের ভাঙনে খোলাবাড়ির চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চ বিদ্যালয়, মসজিদসহ গ্রামের বেশিরভাগ অংশই নদীতে বিলীন হয়েছে।
পাউবো জামালপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু সাঈদ গত সোমবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, খোলাবাড়ির চর বাজারের অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ১৪০ মিটার এলাকায় প্রাথমিকভাবে ১২ হাজার ১৪০টি জিও ব্যাগ ফেলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। এ ছাড়া দেওয়ানগঞ্জের খোলাবাড়ির চর থেকে ফুটানি বাজার পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে প্রকল্প তৈরির কাজ চলছে। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ হলে যমুনার ভাঙন থেকে এ এলাকাকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।