মাস্ক আর সামাজিক দূরত্বই করোনা নিয়ন্ত্রণে ‘কার্যকরী’

করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে শুরু থেকে মাস্ক পরিধান ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলার পরামর্শ দিয়ে আসছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। নতুন এক গবেষণাও তাই বলছে। মাস্ক আর সামাজিক দূরত্বই অতি ছোঁয়াচে এই ভাইরাস থেকে বাঁচতে সহায়ক হতে পারে।

করোনা প্রতিরোধে মাস্ক ও সামাজিক দূরত্বের কার্যকারিতা নিয়ে মেডিকেল জার্নাল লেনসেটে প্রকাশিত নতুন একটি গবেষণা প্রতিবেদনে এমনটিই দাবি করেছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।

উপসংহারে গবেষকেরা বলেছেন, করোনা প্রতিরোধে সার্জিক্যাল মাস্কের তুলনায় এক স্তরের কাপড়ের মাস্ক কম কার্যকরী। আর সবচেয়ে বেশি কার্যকরী টাইট-ফিটিং এন৯৫ মাস্ক। সেই সঙ্গে বারবার হাত ধোয়া ও জীবাণুনাশকের জন্য অন্যান্য বিষয়গুলোও অব্যাহত রাখতে বলেছেন গবেষকেরা।

সামাজিক দূরত্বের বিষয়ে বলা হয়েছে, আশপাশের লোকজন থেকে এক মিটার (তিন মিটার) দূরত্ব রেখে চলা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমায়। তবে দুই মিটার (প্রায় সাড়ে ৬ ফুট) দূরত্ব বজায় রাখতে পারলে আরও ভালো।

আর চোখের নিরাপত্তার জন্য যেকোনো ধরনের চশমা কার্যকরী হতে পারে। তবে কৌশল কোনোটাই একেবারে যথাযথ কাজে নাও আসতে পারে। এ ব্যাপারে আরও নিখুঁত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য গবেষকদের।

কভিড-১৯ এর জন্য দায়ী করোনাভাইরাস নতুন হওয়ায় তা নিয়ে বিশ্লেষণের জন্য স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের এখনো এই ভাইরাসের গোত্রভুক্ত সার্স ও মার্স নিয়ে করা গবেষণার সহায়তা নিতে হচ্ছে।

৪৪টি গবেষণা পর্যালোচনা করে করোনা নিয়ে লেনসেটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে মাস্ক ও সামাজিক দূরত্বের অনুসন্ধানগুলো তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে সাতটি গবেষণা হয়েছে কভিড-১৯ নিয়ে; বাকিগুলো করা সার্স বা মার্স সম্পর্কিত।

তাতে মাস্কের কার্যকারিতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন গবেষক দলের সদস্য কানাডার ওন্টারিওর হ্যামিল্টনের ম্যাকমাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের ডক্টর ডারেক চু।

মাস্ক নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ, যারা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বা যারা করোনায় আক্রান্ত রোগীর সেবায় নিয়োজিত তাদের মাস্ক পরলেই চলবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের পরামর্শ, কেনাকাটা বা এ ধরনের যেকোনো কাজের ক্ষেত্রে অন্তত সাধারণ কাপড়ের মাস্ক হলেও পরতে হবে। তবে বেশিরভাগ দেশই বাইরে গেলে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করেছে।