বরগুনায় লিবিয়ায় অপহরণকারী চক্রের দুইজনকে গ্রেপ্তার

বরগুনায় র‌্যাবের বিশেষ অভিযানে লিবিয়ায় বাংলাদেশি অপহরণকারী চক্রের দুইজন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (র‌্যাব-১২)। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার নাচনাপাড়া ইউনিয়নের খাসতাবক গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে মো. সজল (২৩) এবং নাচনাপাড়া গ্রামের ইউসুফ ঘরামীর ছেলে মো. ইদ্রিস আলী (২৬)।

মঙ্গলবার দিনব্যাপী বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে র‌্যাব-১২(সিরাজগঞ্জ) একটি দল অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার র‌্যাব-১২ এর মিডিয়া অফিসার এম এম এইচ ইমরান কর্তৃক প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অপহরণকারী চক্রের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে বগুড়ায় জেলায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

র‌্যাব-১২ এর মিডিয়া অফিসার এম এম এইচ ইমরান কর্তৃক প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সম্প্রতি লিবিয়ায় ২৬ জন বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করার বিষয়টি সারাদেশে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

এছাড়া, কিছুদিন আগে বাগেরহাট জেলার সদর উপজেলার চুলকাঠি গ্রামের মো. আনোয়ার গাজীর ছেলে লিবিয়া প্রবাসী মো. মুরশিদ গাজী এবং বগুড়া জেলার চারমাথা এলাকার আফসার আলীর ছেলে লিবিয়া প্রবাসী সাইফুল আলী কিছু বাংলাদেশি ও লিবিয়ান মানবপাচার চক্রের দ্বারা অপহৃত হয়। অপহরণের পর লিবিয়ায় বাংলাদেশি চক্রের মূল হোতা গ্রেপ্তারকৃত সজলের বড় ভাই লিবিয়া প্রবাসী সোহেল ও অন্যান্য সদস্যরা ছদ্ম নামের ফেইসবুক আইডি ব্যবহার করে ভিকটিম মুরশিদ গাজীর বড় ভাই বেলাল গাজীকে মুরশিদ ও সাইফুলকে নির্যাতনের একটি ভিডিও পাঠায় এবং পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। মুক্তিপণের টাকা না দিলে মুরশিদকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।

ফেইসবুক আইডির মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায়ের জন্য সোহেল তার ছোট ভাই সজল ও নগদের এজেন্ট ইদ্রিস আলীর নাম্বার দেয় এবং ভিকটিমদের মারধর ও কান্নাকাটির শব্দ বেলাল গাজীকে শোনায়। বেলাল গাজী সোহেলের পাঠানো নাম্বারে সজলের সাথে কথা বলে এবং ইদ্রিসের নগদ হিসাবে এক লাখ ৪০ হাজার টাকা পাঠায়।

একইভাবে সজল ও ইদ্রিস একাধিক সিমকার্ড ও মোবাইল সেট ব্যবহার করে অপহৃত বগুড়া জেলার চারমাথা এলাকার আফসার আলীর ছেলে লিবিয়া প্রবাসী সাইফুল আলীর পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। মুক্তিপণের টাকা না দিলে সাইফুলকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। পরে সাইফুলের পরিবারও ইদ্রিসের নগদ হিসাবের মাধ্যমে সজলকে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা পাঠায়। উক্ত ঘটনার পর র‌্যাব-১২ মানবপাচার চক্র গ্রেফতারে নজরদারী বাড়ায়।

র‌্যাব জানায়, ভিকটিমদের পরিবারের কাছে পাঠানো সোহেলের ভিডিও, ফেইসবুক লিংক, মোবাইল নাম্বার ও নগদ হিসাবের সূত্র ধরে অভিযানে নামে র‌্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় এ চক্রটির সন্ধান পায় তারা।

পরে মঙ্গলবার দিনব্যাপী বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার নাচনাপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাব-১২ (সিরাজগঞ্জ) এর একটি বিশেষ দল। অভিযানে সজল ও ইদ্রিসকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় তারা।

এ সময় গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে নগদ, বিকাশ ও মোবাইল ফোনের লোডের এক লাখ ২৬ হাজার ৭৫৮ টাকা এবং নগদ আট হাজার ১০০ টাকা, ২৫টি নগদ, বিকাশ ও ফেক্সিলোডের রেজিস্টার খাতা, ১১টি মোবাইল সেট ও ২৯টি সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।

র‌্যাব আরও জানায়, লিবিয়া থেকে সোহেলের পাঠানো ভিডিওতে যে ভিকটিমদের দেখা গেছে তাদের মধ্যে বাগেরহাটের মুরশিদ গাজী ও বগুড়ার সাইফুল আলী জীবিত আছে মর্মে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকিদের অবস্থা এখনও জানা যায়নি। তবে অন্যান্য ভিকটিমদের অবস্থান জানা ও বাকি অপরাধিদের গ্রেফতার করার জন্য র‌্যাব চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।