গত বুধবার রাতে রাজধানী ইউনাইটেড হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে নিহত হন পাঁচ রোগী। নিহত ব্যক্তিদের এক স্বজন অভিযোগ করেছেন, আগুনে নিহত লাশ মর্গে রাখার পর বিলও আদায় করে হাসপাতালটি। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারে তিনি বিষয়টি উল্লেখ করেন।
বুধবার অগ্নিকাণ্ডে অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে ইউনাইটেড হাসপাতালের চেয়ারম্যান, এমডি, প্রধান নির্বাহী, পরিচালক, দায়িত্বরত ডাক্তার নার্স ও সেফটি সিকিউরিটির দায়িত্ব থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ওই মামলা করেন তিনি।
নিহত এন্থনী পলের মেয়ের স্বামী রোনাল্ড নিকি গোমেজ বুধবার রাতে রাজধানীর গুলশান থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
গুলশান থানার কর্তব্যরত কর্মকর্তা এসআই তোফাজ্জল হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, বুধবার রাত ৯টার দিকে সিইও, এমডি, চিকিৎসক ও নার্সসহ ছয় পদের নাম উল্লেখ করে পুরো কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়।
মামলার বাদী রোনাল্ড রিকি গোমেজ জানান, ঘটনার দিন তিনি চাক্ষুস দেখেছেন ইউনাইটেডের কর্তাদের অবহেলা। দুইবার করোনা টেস্ট নেগেটিভ আসার পরও তার স্বজনকে ইচ্ছাকৃতভাবে রাখা হয় আইসোলেশন ইউনিটে। চিকিৎসক ও প্রশাসকদের স্বেচ্ছাচারিতায় আরো কয়জন নন-কোভিড রোগীকে সেখানে রাখা ছিল। অথচ তাদের করোনা নেগেটিভ ছিল। তাই এই ঘটনা ও পাঁচজন নিহতের পেছনে সম্পূর্ন দায় ইউনাইটেড হাসপাতালের।
তিনি বলেন, এ কয়েকদিন পরিবারের সবাই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকায় মামলা করতে কয়েকদিন দেরি হয়েছে।
মামলার এজাহারে এন্থনী পলকে হাসপাতালে ভর্তির পর যা যা প্রত্যক্ষ করেছেন সবই উল্লেখ করেছেন তিনি। এ ছাড়া আইসোলেশন ইউনিটের এসিতে লাগা ছোট্ট আগুন দায়িত্বরতদের অবহেলায় কীভাবে বড় হয়ে পাঁচজনের জীবন কেড়ে নিলো তার বর্ণনাও করেছেন বলে রোনাল্ড জানান।
এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়, ঘটনার পর তারা লাশ চট্টগ্রামে নিতে হবে দেখে দেড় দিন ইউনাইটেডের মর্গ ব্যবহার করে। এ জন্য ন্যূনতম মানবিকতা না দেখিয়ে ইউনাইটেডের কর্মকর্তারা তাদের কাছে বিল দাবি করেন। এমনকি হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসার জন্য দেড় লাখ টাকার ভাউচারও ধরিয়ে দেয়।
গুলশান জোনের সহকারী কমিশনার রফিকুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, হাসপাতালটিতে অগ্নিকাণ্ডে রোগী পুড়ে মারা যাওয়ার ঘটনায় নিহতের স্বজনের পক্ষ থেকে অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে মামলা নেওয়া হয়েছে। এতে হাসপাতালটির চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালব, ও পরিচালকসহ আটটি পদের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।