করোনাভাইরাসের প্রভাবে যশোরের ৩৪টি মৎস্য হ্যাচারিতে রেণুপোনা উৎপাদন দুই মাস বন্ধ থাকার পর ১ জুন থেকে আবার চালু হয়েছে।
তবে ভরা মৌসুমে পুরোদমে উৎপাদনে যেতে না পারায় এ খাতের উদ্যোক্তাদের প্রায় ৫০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি হ্যাচারি মালিকদের। জেলায় এবার রেণুপোনা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা দেড় লাখ কেজি, যা গত বছরের চেয়ে প্রায় ৫০ হাজার কেজি কম।
হ্যাচারি মালিক সূত্রে জানা যায়, সাধারণত মার্চ থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত রেণুপোনা উৎপাদনের ভরা মৌসুম। করোনা পরিস্থিতিতে গত ২৮ মার্চ থেকে উৎপাদন বন্ধ রাখেন হ্যাচারি মালিকরা।
জেলা মৎস্য হ্যাচারি মালিক সমিতির সভাপতি ও ফাতিমা হ্যাচারির মালিক ফিরোজ খান জানান, দেশের মোট চাহিদার ৬০ শতাংশ রেণুপোনা যশোর থেকে সরবরাহ করা হয়। সদর উপজেলার চাঁচড়া মৎস্যপল্লীর ৩৪টি হ্যাচারিতে গত বছর আমরা ২ লাখ কেজি রেণুপোনা উৎপাদন করেছিলাম। এ বছর লক্ষ্যমাত্রা কমেছে। এতে হ্যাচারি মালিকদের ৫০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। উৎপাদনে গেলেও আমরা বিদ্যুৎ বিল ও পোনার হরমোন ইনজেকশনের দাম নিয়ে উদ্বিগ্ন। আগে আমরা বিদ্যুৎ বিল দিতাম কৃষি খাতের হারে। এখন দিতে হচ্ছে শিল্প খাতের হারে। এতে উৎপাদন খরচ দ্বিগুণ হয়েছে। এ ছাড়া মাছের হরমোন ইনজেকশন আগে প্রতিটি ছিল ৮ টাকা, এখন কিনতে হচ্ছে ৪০ টাকায়। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেন, রেণুপোনা উৎপাদনে যশোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশের বেশির ভাগ রেণুপোনা যশোর থেকে যায়। জেলায় কার্প জাতীয় মাছের রেণুপোনা উৎপাদন হয় ৬৪ দশমিক ৮৬ মেট্রিক টন। এর মধ্যে জেলার চাহিদা ১৫ দশমিক ২৩ মেট্রিক টন মিটিয়ে বাকি ৪৯ দশমিক ৬৩ মেট্রিক টন দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়। তেলাপিয়ার পোনা ১০১ দশমিক ৪০ মিলিয়ন উৎপাদন হয়। এ ছাড়া পাঙ্গাশের রেণুপোনা উৎপাদন হয় ৩ দশমিক ৬২ মেট্রিক টন এবং শিং, মাগুর, পাবদা, গুলসার রেণুপোনা উৎপাদন হয় শূন্য দশমিক ৮৫ মেট্রিক টন। জানা গেছে, জেলার ২ লাখ লোক মাছ উৎপাদন, চাষ এবং এই সংশ্লিষ্ট পেশার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, করোনাভাইরাসের প্রভাব মৎস্য খাতে পড়েছে। দীর্ঘদিন রেণুপোনা উৎপাদন বন্ধ থাকলে দেশের বাজারে এর প্রভাব পড়বে। এ জন্য আমরা সামাজিক দূরত্ব মেনে সীমিত আকারে রেণুপোনা উৎপাদনের জন্য হ্যাচারি মালিকদের বলেছি। তারা উৎপাদন শুরু করেছেন। আগস্ট পর্যন্ত রেণুপোনা উৎপাদন পুরোদমে চালু থাকলে ক্ষতি কিছুটা কাটিয়ে ওঠা যাবে।