চেয়ারম্যানের সালিশে মাদ্রাসার শিক্ষককে জুতার মালা পরিয়ে নির্যাতন!

বরিশালে এক শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে এক মাদ্রাসার শিক্ষক ও মসজিদের ঈমামের গলায় জুতার মালা পরিয়ে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই ছবি ভাইরাল হলে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় মামলা দায়ের হলে পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

গত বুধবার বরিরশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার ১২ নম্বর দড়িরচর খাজুরিয়া ইউনিয়নে মাদ্রাসা শিক্ষক ও ঈমাম মো. শহীদুল ইমলামকে আটকে রেখে নির্যাতন ও গলায় জুতার মালা পরান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোস্তফা রাঢ়ী ও অন্যান্য সদস্যরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্থানীয় এক শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির টাকা আত্মসাৎ করেছেন মাদ্রাসা শিক্ষক ও মসজিদের ঈমাম মো. শহীদুল ইসলাম, এমন অভিযোগের ভিত্তিতে গত বুধবার দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদে শালিশ বৈঠকে বসেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোস্তফা রাঢ়ী অন্য সদস্যরা।

সালিশ বৈঠকে উপবৃত্তির টাকা আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মাদ্রাসা শিক্ষককে লাঞ্ছিত করা হয়।

একই সঙ্গে তার গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেওয়া হয়। ওই ছবি তারা তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। এলাকাবাসী বিষয়টি দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

এ ব্যাপারে বরিশাল সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক শাহ শাজেদা বলেন, একজান ছাত্রর উপবৃত্তির টাকা নিয়ে যে নির্যাতনের ঘটনা ঘটিয়েছে জনপ্রতিনিধি তা কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এটা একটা ঘৃণ্য এবং জঘন্য ঘটনা। যার মাধ্যমে ওই শিক্ষক ও ঈমামের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে। তার  পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি দেখেছে। আমরা মনে করি যদি ওই শিক্ষক বড় ধরনের অপরাধ করে থাকেন তবে প্রশাসন অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু সেজন্য প্রকাশ্যে জুতার মালা পরিয়ে নির্যাতন মধ্যযুগীয় কায়দা। এটা বন্ধ হওয়া দরকার। একই সঙ্গে যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

নির্যাতনের শিকার মাদ্রাসা শিক্ষক ও ঈমাম মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির টাকা কেলেঙ্কারির অভিযোগ তুলে আমাকে দিনভর পরিষদে আটকে রেখে মারধর করে জুতার মালা পরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় আমি বৃহস্পতিবার বাদী হয়ে চেয়ারম্যানসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছি।

মেহেন্দিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবিদুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, একজন মাদ্রাসা শিক্ষককে নির্যাতন এবং গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ওই ঘটনায় মাদ্রাসা শিক্ষক বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। ওই মামলায় বজলু নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পীযুষ চন্দ্র দে দেশ রূপান্তরকে বলেন, একজন শিক্ষককে জুতার মালা পরিয়ে নির্যাতানের ঘটনা অবশ্যই অমানবিক। আমরা ওই বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। এ ব্যাপারে অবশ্যই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে মামলা হয়েছে এবং একজন আসামি গ্রেপ্তারও হয়েছে।