করোনাভাইরাসের এই সংকটের সময় রাজধানীর দুটি হাসপাতালের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে একটির বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগে মামলা হয়েছে। অন্যটিকে বিল সংক্রান্ত জটিলতার পর টাকা ফেরত দেয় হাসপাতাল।
প্রশ্ন উঠেছে, হাসপাতাল সংক্রান্ত রোগীদের কোন অভিযোগ থাকলে সে বিষয়ে তারা কীভাবে প্রতিকার পাবেন? এ ছাড়া হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার মান নিয়ে অনেকের অভিযোগ থাকে। এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি বাংলা।
'ভুল চিকিৎসা’ কিংবা অবহেলার অভিযোগও প্রায়ই শোনা যায়। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলে (বিএমডিসি) অভিযোগ করতে পারেন ভুক্তভোগী ব্যক্তি বা তার পরিবার। চিকিৎসকদের নিবন্ধন দেয় স্বায়ত্তশাসিত এ সংস্থা। বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. রশিদ-ই-মাহবুব বলেন, তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে বিএমডিসি।
অন্যদিকে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কোন অভিযোগ থাকলে সে বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের শরণাপন্ন হওয়া যেতে পারে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরশেদ বলেন, বেসরকারি হাসপাতাল পরিচালনার জন্য লাইসেন্স দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
লাইসেন্সের জন্য হাসপাতালগুলোকে শর্ত দেওয়া হয়। সেসব শর্ত ভঙ্গ করলে লাইসেন্স বাতিল করতে পারে বলে উল্লেখ করেন এ আইনজীবী।
হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কিংবা চিকিৎসা সংক্রান্ত কোন অভিযোগ থাকলে ভুক্তভোগীরা কখনো-কখনো থানায় কিংবা আদালতে মামলা করেন। কিন্তু অধ্যাপক রশিদ-ই-মাহবুব বলেন, বাংলাদেশে অবহেলা সংক্রান্ত কোন আইন নেই।
তিনি বলেন, “আমাদের এখানে ফৌজদারি আইনে এটা করতে হয়। অথবা সিভিল ল'তে আপনি কমপেনসেশন (ক্ষতিপূরণ) দাবি করতে পারেন। ফৌজদারি আইনে মামলা করতে হয় পুলিশের মাধ্যমে।”
আইনজীবী মনজিল মোরশেদ জানান, হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার পর লাইসেন্স বাতিল করার কোন নজির নেই। তিনি বলেন, “আমাদের দেশে যারা ভুক্তভোগী হয়, তারা প্রতিকারের জন্য এগিয়ে আসেনা এটাই হলো বড় সমস্যা।”
এ দিকে বিভিন্ন প্যাথলজিক্যাল টেস্টের ক্ষেত্রে একটি বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে আরেকটির মূল্য তালিকায় যথেষ্ট পার্থক্য আছে। টেস্ট বাবদ বেশি টাকা নেওয়া হলে সেটির কোন প্রতিকার পাওয়া যাবে কি না?
আইনজীবী মনজিল মোরশেদ বলেন, কোন টেস্টের জন্য কত টাকা নেয়া হবে সে সংক্রান্ত কোন বিধি-বিধান নেই। ফি নির্ধারণ করে দেয়া বেশ কঠিন কাজ। কারণ এটা নির্ভর করে হাসপাতালগুলোর বিনিয়োগের উপর। কোন হাসপাতাল যদি অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন করে, তখন সেখানকার টেস্ট অন্যদের চেয়ে ব্যয়বহুল হতে পারে।
যদি মান নির্ধারণ করে দিতো তাহলে হয়তো টেস্ট করার সর্বোচ্চ ফি নির্ধারণ করে দেওয়া সম্ভব হতো বলে ডা. রশিদ-ই-মাহবুব উল্লেখ করেন।
তবে কয়েকটি ক্ষেত্রে দেখা গেছে সরকার মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে। বিশেষ করে ডেঙ্গু জ্বরের টেস্ট করানোর ক্ষেত্রে হাসপাতালগুলো কতটা নিতে পারবে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। এ ছাড়া হৃদরোগীদের স্টেন্টিং (রিং) করানোর ক্ষেত্রেও খরচ নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। যদিও সব জায়গায় সেটি মেনে চলা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।