স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো কিট ‘ত্রুটিপূর্ণ’ হওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) নবপ্রতিষ্ঠিত করোনা ভাইরাস শনাক্তকরণ ল্যাবের কার্যক্রম। অধিদপ্তর নতুন কিট পাঠালে পুনরায় ল্যাবের কার্যক্রম চালু হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার বিকেলে দেশ রূপান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চবি করোনা শনাক্তকরণ ল্যাবের সদস্য সচিব ও প্রক্টর অধ্যাপক এফ এম মনিরুল হাসান।
অধ্যাপক এম এম মনিরুল হাসান বলেন, ঢাকা থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো কিটগুলো দিয়ে নমুনা পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর বিশ্বাসযোগ্য ফলাফল আসেনি। তার মানে কিটগুলো ত্রুটিপূর্ণ। তাই কিটগুলো আজ সকালে ঢাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারা আপাতত আমাদের বর্তমানে প্রচলিত ও অন্যান্য জায়গায় ব্যবহৃত হচ্ছে এমন ৫০০ কিট পাঠাবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, এগুলো উনারাও (স্বাস্থ্য অধিদপ্তর) জানে যে, কিটগুলো ত্রুটিপূর্ণ। তারপরেও পাঠিয়েছে। তবে উনারা এগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে জানাননি। কিট উৎপাদনকারী কোম্পানির বিষয়েও অভিযোগ আছে। তাই এই কিটগুলো দিয়ে পরীক্ষা করলে রিপোর্ট ভুল আসার সম্ভাবনা রয়েছে। নির্ভরযোগ্য রেজাল্ট না দিতে পারলে তো লাভ নেই। তাই এ কিটগুলো ফেরত পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় করোনা শনাক্তকরণ ল্যাবের ইনচার্জ ড. মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, কিটগুলো ব্যবহার পর দেখা গেছে বিশ্বাসযোগ্য রেজাল্ট পাওয়া সম্ভব না। আমাদের কিছু কন্ট্রোল পয়েন্ট থাকে, কন্ট্রোল পয়েন্টগুলোতে সঠিক রেজাল্ট আসছে না। তাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে কথা বলে কিটগুলো ফেরত পাঠানো হয়েছে।
এর আগ গত ২৭ মে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদের গবেষণাগারে কোভিট-১৯ (করোনা ভাইরাস) শনাক্তকরণ পরীক্ষা চালুর অনুমোদন দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। পরে গত সোমবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ল্যাবের উদ্বোধন ঘোষণা করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. দীপু মনি। ল্যাবটিতে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৫০০ টি নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব হবে।