না.গঞ্জে ৩ হাজার করোনা রোগীর ৪টি আইসিইউ

করোনার অন্যতম হটস্পট নারায়ণগঞ্জে ইতিমধ্যে তিন হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে। কিন্তু এসব রোগীর চিকিৎসায় মাত্র চারটি আইসিইউ শয্যা রয়েছে। ফলে মুমূর্ষুদের ঢাকার ওপর ভরসা করতে হচ্ছে। তবে সংকট নিরসনে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ১০টি আইসিইউসহ খানপুর ৩০০ শয্যার হাসপাতাল চালু হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির তত্ত্বাবধায়ক ডা. গৌতম রায়। এতে কিছুটা হলেও সংকট কাটবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ‘করোনা-বীর’খ্যাত মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ ৬১ লাশ দাফন করে ৩০ মে নিজে করোনায় আক্রান্ত হন। তারও আগে ২২ মে স্ত্রীর করোনা পজিটিভ আসে। তীব্র শ্বাসকষ্ট হলেও খোরশেদ স্ত্রীর জন্য জেলার কোথাও আইসিইউর ব্যবস্থা করতে পারেননি। তবে খবর পেয়ে খোরশেদের পাশে দাঁড়ান নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান। তিনি ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে এই দম্পতিকে ভর্তির ব্যবস্থা করেন।

আইসিইউর ব্যবস্থা না থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন করোনা আক্রান্ত রোগী ও তাদের স্বজনরা। রাজধানীর নিকটবর্তী জেলায় দ্রুত আইসিইউ শয্যা বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক করোনা ডেডিকেটেড হিসেবে ১০টি আইসিইউসহ খানপুর ৩০০ শয্যার হাসপাতাল চালুর ঘোষণা দেন। এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. গৌতম রায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ইতিমধ্যে ভেন্টিলেটর, সেন্ট্রাল অক্সিজেন, মনিটর চলে এসেছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে ১০টি শয্যা আসবে। আশা করছি ৫-৬ দিনের মধ্যেই আইসিইউ ইউনিট চালু করতে পারব।’

জেলা সিভিল সার্জন মো. ইমতিয়াজ জানান, বিগত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় কোনো মৃত্যু সংবাদ পাওয়া না গেলেও ১৩৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে মোট আক্রান্ত ৩ হাজার ২৯১ জন। এদের মধ্যে বিভিন্ন শিল্প-কারখানার ১২৮ শ্রমিক রয়েছেন।