বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও বেশ কয়েকটি দেশ করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে নতুন কৌশল অবলম্বন করেছে। নতুন এই কৌশলে চিকিৎসা পদ্ধতি ও আক্রান্তদের তথ্য-উপাত্ত সংরক্ষণের ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এই কৌশল পরিবর্তনের পেছনে আছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সুরগিস্ফিয়ার নামের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের দায়। প্রতিষ্ঠানটির গবেষণাপত্র বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। তবে তাদের গবেষণার পদ্ধতি সম্পর্কে তেমন আলোকপাত করা হয়নি।
করোনাভাইরাসের চিকিৎসার সম্ভাব্য ওষুধ হিসেবে হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইনের ব্যবহার নিয়ে আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। বুধবার ওষুধটির ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা শুরুর ঘোষণা দিয়েছে সংস্থাটি। ডব্লিউএইচওর সঙ্গে লাতিন আমেরিকার কয়েকটি দেশও সাবেক অবস্থান থেকে সরে এসেছে। এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে ডব্লিউএইচওর প্রধান টেড্রোস আডানোম গেব্রিয়াসিস জানিয়েছেন, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষজ্ঞ কমিটি এই ওষুধটির পরীক্ষা বাতিলের কোনো কারণ খুঁজে পায়নি। ফলে নতুন করে এই ওষুধের ট্রায়াল শুরু করার ঘোষণাও দেন তিন। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প করোনা চিকিৎসার ক্ষেত্রে এই ওষুধটিকে ‘গেমচেঞ্জার’ আখ্যা দিলেও সে দেশের ওষুধ প্রশাসন আগেই এটির ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছিল।
ল্যানচেট মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় করোনাভাইরাস রোগীদের হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন দিয়ে চিকিৎসায় মৃত্যঝুঁকি বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়ার পর গত ২৫ মে ওষুধটির ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা দেয় ডব্লিউএইচও। ওই সময়ে সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়, তথ্য পর্যালোচনার সময়ে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ল্যানচেট ও নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিন সুরগিস্ফিয়ারের তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। আর ওই গবেষণার আলোকেই ডব্লিউএইচও হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইনের ব্যবহার বন্ধ করে। দ্য গার্ডিয়ান সুরগিস্ফিয়ারের ওপর তদন্ত করে দেখতে পেয়েছে ওই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের অধিকাংশেরই তেমন কোনো অভিজ্ঞতা দূরের কথা, বিজ্ঞাননির্ভর কোনো ব্যাকগ্রাউন্ডও নেই। গবেষক দলের একজন কল্পকাহিনী লেখক, একজন বাজারজাতকরণ কর্মকর্তা ও অন্যজন প্রাপ্তবয়স্ক ফটোশুটের মডেল। সুরগিস্ফিয়ার দাবি করেছিল যে, গবেষণায় তারা বিশ্বের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে প্রাপ্ত তথ্য ব্যবহার করেছে। কিন্তু বাস্তবে এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানটির টুইটারে মাত্র ১৭০ জন ফলোয়ার এবং ২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের মার্চ পর্যন্ত সেখানে কোনো পোস্ট নেই।