বাংলাদেশি নিহতের ঘটনায় লিবিয়ার নাগরিকসহ ৩৩ জনকে আসামি করে মামলা

লিবিয়ায় পাচারকারীদের হাতে গুলিতে ২৬ বাংলাদেশি নিহতের ঘটনায় মানবপাচার ও সন্ত্রাস দমন আইনে ঢাকায় আরেকটি মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি।

বৃহস্পতিবার রাতে বানানী থানায় দায়ের করা এই মামলায় লিবিয়ার বেনগাজীর বাসিন্দা আবদুল্লাহসহ ৩৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয় ৬০ থেকে ৬৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

বনানী থানার ওসি নুরে আযম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, আবদুল্লাহ ছাড়া মামলার বাকি আসামিদের সবার বাড়ি বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায়। সিআইডির এসআই মো. কামরুজ্জামান বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন।

মামলায় আসামিদের মধ্যে বেঙ্গল টাইগার ওভারসিস লিমিটেডের মালিক, মাদারীপুরের জুলহাস শেখ, নুর হোসেন শেখ, রবি, ইলিয়াছ মীর মেম্বার, নজরুল, মিরাজ হাওলাদার, রাসেল মীর, রাজন ওরফে বুলেট, মোমিন, কিশোরগঞ্জের জাফর, শাওন, গোপালগঞ্জের রব মোড়ল, কুষ্টিয়ার হাজী কামাল, সাদ্দাম হোসাইন, ফরিদপুরের বকর সরদার, রুজভেল্ট ট্রাভেল এজেন্সির পরিচালক মো. আকবর হোসেন, রফিকুল ইসলাম সেলিম, আবদুর রহমান তৌহিদ, কাজী শরিফ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হোসাইন, নোয়াখালীর কাজী ইসমাইল হোসেন, তিন ভাই রুবেল মির্জা, নাসির উদ্দিন মির্জা ও রিপন মির্জা, কুমিল্লার সনাতন দাশ ওরফে দাদা, কুমিল্লার শরীফ হোসেন, সোহেল পঞ্জেরী, হারুন, জাকির মিয়া, শরীয়তপুরের মো. রফিকুল ইসলাম ও নড়াইলের মোক্তার মোল্লার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলায় বলা হয়, আসামিরা ভালো বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণামূলকভাবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুট ব্যবহার করে বিভিন্ন অংকের টাকার বিনিময়ে লিবিয়ায় পাচার করে কম টাকায় কঠিন শ্রমে নিয়োজিত করে এবং আটক করে মুক্তিপণ দাবি ও আদায়; হত্যা ও গুরুতর জখম করে মানব পাচার ও প্রতিরোধ দমন আইন ২০১২ এর ৬/৭/৮/১০ ধারাসহ দণ্ডবিধির ৩০২/৩২৬/৩৪ ধারার অপরাধ করেছে।

মামলায় ঘটনা তারিখ ও সময় ধরা হয়েছে ২০১৮ সালের এপ্রিল মাস থেকে ২০২০ সালের ২৮ মে। 

গত ২৮ মে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলি থেকে ১৮০ কিলোমিটার দক্ষিণের শহর মিজদাহতে ২৬ বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করে একদল মানব পাচারকারী ও তাদের স্বজনরা। ওই ঘটনায় চার আফ্রিকান অভিবাসীও নিহত হন।

এ ঘটনায় এর আগে গত ২ জুন ৩৮ জনকে আসামি করে পল্টন থানায় আরেকটি মামলা করেছিল সিআইডি।