করোনা রোগীদের চিকিৎসায় এগিয়ে এসেছে চট্টগ্রামের বেসরকারি মা ও শিশু হাসপাতাল। আজ শনিবার থেকে এখানে আইসিইউ সুবিধাসহ করোনা চিকিৎসা সেবা চালু হবে বলে জানিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. ফজলে রাব্বী।
গতকাল শুক্রবার দেশ রূপান্তরকে তিনি আরও জানান, প্রথম বেসরকারি হাসপাতাল হিসেবে এখানে ১০টি ভেন্টিলেটরযুক্ত আইসিইউ, ২০টি আইসোলেশনসহ মোট ৩০টি শয্যা প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রয়োজনে শয্যা আরও বাড়ানো হবে।
হাসপাতালের ট্রেজারার রেজাউল করিম আজাদ বলেন, ‘আনুষ্ঠানিকভাবে শনিবার রোগী ভর্তি করা হবে। তবে আমরা বেশ আগে থেকেই করোনা উপসর্গের রোগীর চিকিৎসা করছি। বর্তমানে এ ধরনের ৪০ জন চিকিৎসাধীন।’ তিনি আরও বলেন, ‘হাসপাতালের নবনির্মিত ভবনে করোনা ওয়ার্ডে ২০ চিকিৎসকসহ নার্স-আয়া মিলে প্রায় ১০০ জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আাগামীতে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যে পিসিআর মেশিন কেনার প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান হয়েছে। আশা করছি, অনুমতি পেলে দ্রুত চিকিৎসার পাশাপাশি করোনার নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করা সম্ভব হবে।’
বর্তমানে চট্টগ্রামে তিনটি সরকারি হাসপাতালে করোনা রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। এগুলো হলো চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) এবং বেসরকারি উদ্যোগে স্থাপিত চট্টগ্রাম ফিল্ড হাসপাতাল। এর মধ্যে জেনারেল হাসপাতাল থেকে পাঠানো কিছু রোগীর চিকিৎসা চলছে রেলওয়ে হাসপাতালে। বেসরকারি হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতাল, ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল ও ইউএসটিসি করোনা চিকিৎসার জন্য অধিগ্রহণ করা হলেও, এখন পর্যন্ত চিকিৎসা সেবা শুরু করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্র্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক দেশ রূপান্তরকে জানান, তাদের হাসপাতালেও করোনা চিকিৎসার জন্য ১০টি আইসিইউসহ ৫০টি শয্যার আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রস্তুত করা হচ্ছে। শিগগিরই চট্টগ্রাম বন্দরের আক্রান্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এখানে চিকিৎসা সেবা চালু করা হবে।
চট্টগ্রাম নগরী ও জেলায় গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৩ হাজার ৬৬৯ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে মারা গেছেন ৮৫ জন।