চট্টগ্রামে বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে কঠোর হচ্ছে প্রশাসন

২০ হাসপাতাল-ক্লিনিককে চিঠি

করোনা পরিস্থিতিতে চট্টগ্রামের চিকিৎসা খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর হচ্ছে প্রশাসন। ইতিমধ্যে জেলার ২০টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিককে চিঠি দিয়েছে এ-সংক্রান্ত সার্ভিল্যান্স টিম। চিঠিতে হাসপাতালের শয্যা, দৈনিক সেবা নিতে আসা রোগীর মধ্যে সাধারণ, কভিড-১৯ উপসর্গ ও কভিড শনাক্ত কতজন এবং সেবা না দিয়ে কাউকে ফিরিয়ে দেওয়া হলে কেন, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

গত ২৭ মে দেশের সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিকে করোনা ও অন্যান্য রোগীকে আলাদা ইউনিটে রেখে চিকিৎসা দিতে নির্দেশনা দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। কিন্তু এ নির্দেশ অমান্য করে চট্টগ্রামের বেসরকারি হাসপাতালগুলো করোনা রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেয়নি। জেলায় একাধিক হাসপাতালে ঘুরে সেবা না পেয়ে সাধারণ রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে। বিএমএ চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল ইকবাল চৌধুরী ও ক্লিনিক মালিক লিয়াকত আলীর মদদে বেসরকারি হাসপাতালগুলো রোগীদের সেবাবঞ্চিত করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপরও সার্ভিল্যান্স টিমে ফয়সাল ইকবালকে রাখা হলে ফের সমালোচনা শুরু হয়।

এ বিষয়ে সার্ভিল্যান্স টিমের আহ্বায়ক ও চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ‘গত ৩০ মে সাত সদস্যের সার্ভিল্যান্স টিম গঠন করা হয়। কিছু প্রশ্ন আসায় কমিটি থেকে বিএমএ চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল ইকবাল চৌধুরীকে বাদ দিয়ে সংগঠনের সভাপতি ডা. মুজিবুল হক খানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে কভিড-১৯ এবং নন কভিড রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিতে সার্ভিল্যান্স টিম কাজ শুরু করেছে। ইতিমধ্যে নগরীর ২০টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিককে চিঠি দিয়ে বিভিন্ন তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে। প্রত্যেক রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিতে টিম কাজ করবে। চিকিৎসার ক্ষেত্রে হাসপাতালগুলোর কোনো অজুহাত মানা হবে না। কারও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা থাকলে আমাদের লিখিত জানালে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে সার্ভিল্যান্স টিমের সদস্য সচিব চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, ‘চিকিৎসা না পাওয়ার বিষয়ে অনেকে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেন। পরে টিমের পক্ষ থেকে তাদের সমস্যা শুনে সমাধান দেওয়া হয়।’