জমি লিখে না দেওয়ায় মাকে বাড়িছাড়া করল ছেলে

জমি লিখে না দেওয়ায় এক মাকে তার ছেলে বাড়িছাড়া করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার দীঘা গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে গত বৃহস্পতিবার মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমানের কাছে লিখিত আবেদন দিয়েছেন ওই মা সালমা বেগম (৫৫)। অভিযুক্ত ছেলের নাম হাবিবুর রহমান (৩৫)। ঘটনার পর মেয়ে মাসুরা

খাতুনকে সঙ্গে নিয়ে সালমা বেগম তার ভাই বিল্লাল হোসেনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। সালমা বেগমের লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৭ বছর আগে গাছ থেকে পড়ে মারা যান তার স্বামী কায়েম মোল্যা। তারপর থেকে তিনি অনেক কষ্টে দুই ছেলে হাবিবুর, আবদুলাহ ও একমাত্র মেয়ে মাসুরাকে বড় করে তুলেছেন। বড় ছেলে হাবিবুর রহমান এখন প্রাইভেটকার চালক। ছোট ছেলে আবদুল্লাহ ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে। ২০১৯ সালের অক্টোবরে তিনি বিয়ে করান ছেলে হাবিবুরকে। প্রথম দিকে সব ভালোই চলছিল। কিন্তু সম্প্রতি বসতবাড়িতে থাকা পাকা ঘরসহ ২ শতক জমি হাবিবুর রহমান তার নামে লিখে দিতে বলে। এটি সালমা বেগমের নিজের নামীয় জমি। সালমা বেগম এতে রাজি না হওয়ায় বিভিন্ন সময়ে নানা রকম হুমকি দিয়ে আসছিল। এরপর গত ২৯ মে সালমা বেগম ও তার মেয়ে মাসুরাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয় হাবিবুর রহমান। তারপর থেকে সালমা বেগম নিজ গ্রাম দীঘার পার্শ্ববর্তী রায়পুরে ভাই বিল্লাল হোসেনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। ছোট ছেলে আবদুল্লাহ বড় ভাইয়ের সৃষ্ট এ ধরনের পারিবারিক অশান্তির কারণে দীর্ঘদিন বাড়িতে আসে না।

তবে সালমা বেগমের অভিযোগ অস্বীকার করে হাবিবুর রহমান গতকাল শুক্রবার বলেন, আমি যে প্রাইভেটকার চালাই, সেটা কিনতে আমার মামা বিল্লাল হোসেন কিছু টাকা ধার দিয়েছিলেন। সেই টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য মা দীর্ঘদিন চাপ দিচ্ছেন। কিন্তু সামর্থ্য না থাকায় আমি দিতে পারছি না। এ নিয়ে কয়েক দিন আগে মায়ের সঙ্গে কিছুটা কথা কাটাকাটি হয় আমার। তারপর মা আমার বোনকে নিয়ে মামার বাড়িতে উঠেছেন। আমি তাদের বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে গিয়েছি, কিন্তু তারা আসেননি।

এ বিষয়ে মহম্মদপুরের ইউএনও মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘সালমা বেগমের আবেদন পেয়েছি। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মহম্মদপুর থানাকে নির্দেশ দিয়েছি।’

ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব পাওয়া মহম্মদপুর থানার এসআই রাজু হোসেন গতকাল এ ব্যাপারে বলেন, ‘হাবিবুরকে শনিবার (আজ) মহম্মদপুর থানায় হাজির হতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’