অনলাইনে ক্লাস করতে শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের ১২ দফা

অনলাইন ক্লাস নিয়ে বিভিন্ন সংকট দেখছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা। যে কারণে এ বষিয়ে তাদের অনাগ্রহ রয়েছে। অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণ করতে প্রশাসনকে তারা ১২ দফা দাবি জানিয়েছে।

শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে শাহরিয়ার আবেদীন, শর্মিলা সিদ্দিকা মিলা, শারিকা শারমীন, ইশতিয়াক আহমেদ প্রেরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

৭ মে অনলাইন ক্লাসের বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা তুলে ধরে ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিল শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা। পরে ১৭ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত অনলাইন শিক্ষাকার্যক্রম কার্যক্রম স্থগিত রাখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। 

তবে ১ জুন থেকে অনলাইনে ক্লাস শুরুর ঘোষণা দেয় প্রশাসন। এর প্রেক্ষিতে প্রশাসনকে ১২ দফা দাবি পূরন করার শর্ত বেধে দেয় শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো, অনলাইন মাধ্যমে শিক্ষা-কার্যক্রম চালাতে চাইলে সব শিক্ষার্থীর ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। সেক্ষেত্রে অবশ্যই প্রত্যেককে ডেটা কেনার পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ করে শিক্ষা-ভর্তুকির আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি এবং শিক্ষার্থীদের আর্থিক সমস্যা বিবেচনা করে ভর্তি ফি ও সেমিস্টার ফি মওকুফ অথবা কমাতে হবে।

তারা আরো দাবি জানান, যাদের ডিভাইস নেই এবং ডিভাইস ক্রয় করার আর্থিক অবস্থা নেই, প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অনলাইন ক্লাস নেয়ার জন্য শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং প্রস্তুতির ব্যবস্থা করতে হবে।

শিক্ষার্থীদের দাবি, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে ইন্টারনেট অ্যাকসেসের সমান সুযোগ না থাকায় সরাসরি অনলাইন ক্লাস নেয়া যাবে না। সেক্ষেত্রে রেকর্ড করা ভিডিও বা প্রয়োজনীয় কোর্স ম্যাটেরিয়ালস তৈরি করে শিক্ষার্থীদের পৌঁছে দিতে হবে। একই সঙ্গে ক্লাস-উপস্থিতির পূর্ণ নম্বর রাখতে হবে সবার জন্য। সামাজিক, মানসিক অথবা নেটওয়ার্ক সমস্যাজনিত কারণে কেউ যদি ক্লাসে উপস্থিত থাকতে না পারে তাদের ক্লাস করতে বাধ্য করা যাবে না। এ ছাড়া অনলাইনে পরীক্ষা নেয়া যাবে না। কোনো অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হলে তার ডেডলাইন সেমিস্টার ফাইনাল পর্যন্ত দিতে হবে। ক্যাম্পাস খুললে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন সাপেক্ষে কমপক্ষে দেড় মাস বা ততধিক সময় রিভিউ ক্লাস নেওয়ার পর পরীক্ষা নিতে হবে। পর্যাপ্ত সময় দিয়ে টার্মটেস্ট নিতে হবে।

তারা আরো দাবি জানান, যেসব ডিপার্টমেন্টে ল্যাব, প্রোজেক্ট ও থিসিস আছে তাদের এসব করার জন্যে কমপক্ষে আড়াই মাস সময় দিতে হবে। সেমিস্টার ফাইনালের আগে কমপক্ষে ২ সপ্তাহ পিএল এর ব্যবস্থা রাখতে হবে। সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষাগুলোর মধ্যে ১ ক্রেডিটের পরীক্ষায় কমপক্ষে ১ দিন, ২ ক্রেডিটের ২ দিন, ৩ ক্রেডিটের ৩ দিন ও ৪ ক্রেডিটের পরীক্ষায় কমপক্ষে ৪ দিন বন্ধ, যা সাধারণ নিয়মেই আছে তা নিশ্চিত করতে হবে। পরিস্থিতি পরিবর্তন হলেও এই নিয়ম পরিবর্তন করা যাবে না।

শিক্ষার্থীদের দাবি, যদি অনলাইন কার্যক্রমের মাধ্যমে একের অধিক সেমিস্টার শেষ করা হয় তাহলে সেমিস্টারের ক্রমানুসারে সেমিস্টার ফাইনাল নিতে হবে। এক্ষেত্রে ক্যাম্পাস খুললে এবং সরাসরি ক্লাস চালু হলে প্রথমে চলতি সেমিস্টারের রিভিউ ক্লাস, এরপর চলতি সেমিস্টারের ফাইনাল পরীক্ষা; এরপর পর্যাপ্ত বিরতি দিয়ে পরবর্তী সেমিস্টারের রিভিউ ক্লাস ও পরবর্তী সেমিস্টারের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা- এভাবে সেমিস্টারগুলো শেষ করতে হবে। সব অনলাইন ক্লাস সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টার মধ্যে নিতে হবে। এ ছাড়া চলতি সেমিস্টার ২০ জুনের মধ্যে শেষ করার অযৌক্তিক দাবি প্রত্যাহার করতে হবে।

দাবি পরিপূর্ণভাবে মেনে নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত প্রজ্ঞাপন জারি করলে শিক্ষার্থীরা অনলাইন শক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

এ দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ “৩২০ একর” নামক ফেসবুক পেজের উদ্যোগে ১৬ মে থেকে "অনলাইন ক্লাস নিয়ে সার্ভে" নামে একটি জরিপ চালান হয়। এতে এখন পর্যন্ত সব ব্যাচের ১৬৮০ শিক্ষার্থী অংশ নেন। ৯৪ শতাংশ শিক্ষার্থী অনলাইনে ক্লাস নেয়ার বিপক্ষে মত দেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার মো. ইশফাকুল হোসেন বলেন, অনলাইন ক্লাস নেয়ার সিদ্ধান্ত যেহেতু একাডেমিক কাউনসিল থেকে এসেছে। তাই শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো একাডেমিক কাউন্সিলের মিটিংয়ে আলোচনা হবে। তারপর একটা সমাধানে আসা যাবে বল আমি মনে করি।

উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কল ধরেননি।