বৈচিত্র্য ছাড়া ক্রিকেট অসম্ভব

যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশি নির্যাতনে আফ্রিকান-আমেরিকান জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুতে গোটা বিশ্ব প্রতিবাদে উত্তাল। এই প্রতিবাদে যোগ দিল আইসিসিও। ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি তাদের টুইটার অ্যাকাউন্টে লিখেছে, বৈচিত্র্য ছাড়া ক্রিকেট ভাবাই যায় না।

নিজেদের এই বার্তার পাশাপাশি ২০১৯ বিশ্বকাপের সুপার ওভারের ভিডিও জুড়ে দিয়েছে আইসিসি। ভিডিওটির কেন্দ্রে ছিলেন কৃষ্ণাঙ্গ জোফরা আর্চার। সেদিন আর্চারের করা সুপার ওভারের শেষ বলেই প্রথমবারের মতো ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয় নিশ্চিত হয়েছিল ইংল্যান্ডের। ভিডিওটিতে একজন কৃষ্ণাঙ্গ হিসেবে আর্চারের গুরুত্ব বোঝানো হয়েছে। এছাড়া পুরো ভিডিওতে দর্শক সারিতে সাদা-কালো চামড়ার মানুষদের এক হয়ে থাকা। বিশ্বকাপ জয়ের পর এক হয়ে উৎসব করা এবং ইংল্যান্ড দলে নন ইংলিশ ক্রিকেটারদের সঙ্গে ইংলিশ ক্রিকেটারদের আনন্দের মুহূর্তও দেখানো হয়। এতে বৈচিত্র্যে ভরা ক্রিকেট যে বর্ণবৈষম্য দূর করার দিক থেকেও নমনীয় সে বার্তা দিয়েছে আইসিসি। ভিডিওটির ক্যাপশনে তারা লিখেছে ‘বৈচিত্র্য ছাড়া ক্রিকেট কিছুই নয়, বৈচিত্র্য ছাড়া আপনি পুরো ছবিটা দেখতে পাবেন না।’

ক্রিকেট যে সত্যিই বৈচিত্র্যে পরিপূর্ণ, তার সবচেয়ে আদর্শ উদাহরণ হতে পারে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে বিশ্বকাপ জেতা ইংল্যান্ড দলটি। ইংলিশ ক্রিকেটারের চেয়ে ইংল্যান্ডের বাইরের ক্রিকেটারেরই প্রাধান্য বেশি এই দলে। তাদের অধিনায়ক ইয়ন মরগ্যান একজন আইরিশ। আয়ারল্যান্ডের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটও খেলেছেন। বিশ্বকাপে দলটির সেরা পারফরমার ছিলেন নিউজিল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী অলরাউন্ডার বেন স্টোকস। দুই স্পিনার মঈন আলি ও আদিল রশিদ পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত। আসরজুড়ে ইংলিশদের দুর্দান্ত শুরু এনে দেওয়া ওপেনার জেসন রয়ের জন্ম দক্ষিণ আফ্রিকায়। এছাড়া উইন্ডিজ বংশোদ্ভূত জোফরা আর্চার তো ছিলেনই। শিরোপা জয়ের পর ইংলিশ দলনেতা ইয়ন মরগ্যান বলেছিলেন যে, বৈচিত্র্যের ভেতরেই একতা খুঁজে পেয়েছিলেন তারা এবং সেটাই ছিল তাদের সাফল্যের গোপন রহস্য। ফ্লয়েডের মৃত্যুতে বর্ণ বৈষম্যের প্রতিবাদ জানিয়ে এর আগে সরব হয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই তারকা ক্রিকেটার ক্রিস গেইল ও ড্যারেন স্যামি। আগ্রাসী বাঁহাতি ব্যাটসম্যান গেইল জানান, ‘সারা দুনিয়ায় ভ্রমণ করি আমি। আমিও বর্ণ বিদ্বেষের শিকার হয়েছি। আমার গায়ের রঙের কারণেই বিদ্বেষের শিকার হতে হয়েছে। বর্ণ বিদ্বেষ ফুটবলেই আবদ্ধ নেই, ক্রিকেটেও তা আছে। এমনকি দলের ভেতরও। শুধু গায়ের রং কালো বলে অনেক সময় আমি দোষী হয়েছি। কিন্তু আমি বলতে চাই, আমি কৃষ্ণাঙ্গ এবং আমি শক্তিশালী।’

অধিনায়ক হিসেবে দুবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা জেতা স্যামি বর্ণ বৈষম্যের বিরুদ্ধে আইসিসি ও বাকি সব ক্রিকেট বোর্ডকে চুপ না থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘গলায় হাঁটু দিয়ে চেপে ধরার ওই ভিডিও দেখার পরও যদি ক্রিকেটবিশ্ব সরব না হয়, তবে বলতে হবে তোমরাও এই সমস্যার অংশ।’