এখন রাজনীতি নয়, অভিন্ন শত্রু করোনা মোকাবিলার সময়: কাদের

দেশের রাজনৈতিক দল সমূহের প্রতি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এখন রাজনীতি নয়, রাজনীতির করার অনেক সময় আছে, করা যাবে। দলে দলে মত পার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু করোনা আমাদের অভিন্ন শত্রু।

ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস উপলক্ষে রবিবার রাজধানীর ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের পক্ষে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তার বাসভবন থেকে ব্রিফিংকালে তিনি একথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, এই অভিন্ন শত্রু মোকাবিলায় আমরা যেন বিভেদের ভাইরাস না ছড়িয়ে দিই। করোনা ভাইরাস আমাদের সংক্রমিত করছে আমরা যেন জাতিকে বিভ্রান্তি না করি। আসুন আমরা সংকটের পরীক্ষিত নেতা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়ে করোনা প্রতিরোধ করি।

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারি ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশেও করোনা সংকটে নিপতিত। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা করোনা সংকটে জাতির নেতৃত্বে দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি এই করোনা পরিস্থিতি সামাল দিয়ে যাচ্ছেন। গোটা জাতিকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বয় করছেন, পরিকল্পনা নিচ্ছেন। প্রণোদনা প্যাকেজ দিচ্ছেন। একদিকে মানুষকে বাঁচানো, অন্যদিকে করোনাকে প্রতিরোধ করা- দুটি লড়াই করতে হচ্ছে। এই দুই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে শেখ হাসিনা অগ্রসর হচ্ছেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ৭ জুন হচ্ছে স্বাধীনতার ইতিহাসে বাঁক পরিবর্তনকারী ঘটনা। এই ৭ জুনের ৬ দফার ভিত্তিতে ১৯৬৯ সালে ১১ দফার ঘোষণা আসে। আর ১১ দফা আন্দোলনে সারাদেশে গণ অভ্যুত্থান সংগঠিত হয়। এই ৭ জুন ও ঐতিহাসিক ৭ মার্চ যারা পালন করে না, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং স্বাধীনতার আদর্শে তাদের বিশ্বাস নেই। এটাই আজ কালের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, এবার ৬ দফা দিবস আমাদের জীবনে এসেছে এক ভিন্নতর প্রেক্ষাপটে। এবার ৭ জুন বর্ণাঢ্য উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে পালন করার কথা ছিল। যেহেতু এবার মুজিববর্ষের মধ্যে পড়েছে; কাজেই এবারকার ৭ জুনের তাৎপর্য এবং ব্যঞ্জনা অনেক গভীর। আমরা চেয়েছিলাম এই দিবসটিকে উৎসবের সঙ্গে পালন করার জন্য। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতার পরিস্থিতিতে তা সম্ভব হয়নি।

ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে শ্রদ্ধা নিবেদনে সময় আরও উপস্থিত ছিলেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, হাছান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম, বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, উপ প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান, কেন্দ্রীয় সদস্য মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন প্রমুখ।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, আজ ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস, ১৯৬৬ সালের এ দিনে হাজার বছরের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ঐতিহাসিক ছয় দফা প্রস্তাব পেশ করেছিলেন। প্রকৃতপক্ষে স্বাধীনতার পক্ষে বঙ্গবন্ধু ছয় দফা ঘোষণা করেছিল। এটির পক্ষে বাংলাদেশের মানুষ অর্থাৎ তৎকালীন পূর্ব বাংলার মানুষ অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়েছিল। ছয় দফার ভিত্তিতে ১৯৭০ সালের নির্বাচন হয়েছিল এবং এ দেশের মানুষ নিরঙ্কুশ সমর্থন জানিয়েছিল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিল।

স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পরেও বিএনপি স্বাধীনতা বিরোধীদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে- দাবি করে আওয়ামী লিগের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, এখনও স্বাধীনতার পক্ষ বিপক্ষের শক্তি নিয়ে কথা বলতে হয়, যেটি স্বাধীনতার প্রায় পঞ্চাশ বছর পরে দুঃখজনক।