করোনা বিতর্কে ফের মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র-চীন

নভেল করোনাভাইরাস নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে নতুন করে বিতণ্ডা শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ট এক সিনেটরের মন্তব্য এই বিতণ্ডা উস্কে দেয়।

বিবিসি জানায়, রিপাবলিকান সেনেটার রিক স্কট অভিযোগ করেছেন চীন পশ্চিমের দেশগুলোকে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরিতে বাধা দিচ্ছে। 

ফ্লোরিডার এই সেনেটার বলেন, আমাদের কাছে তথ্য আছে যে, কম্যুনিস্ট চীন টিকা তৈরির বিষয়টি নসাৎ করতে চাইছে। তারা চায় না যুক্তরাষ্ট্র, ইংল্যান্ড বা ইউরোপ প্রথম এই টিকা বের করুক। 

তবে তথ্য সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু তিনি বলেননি। এমনকি চীন করোনা নিয়ে মার্কিন প্রশাসনকে শুরুতে কিছুই জানায়নি বলেও অভিযোগ তুলেন রিক স্কট।

ট্রাম্পের আস্থাভাজন এই সিনেটর বলেন, চীন আমাদের সঙ্গে যা করেছে তা হতাশজনক। করোনা নিয়ে তারা মিথ্যা বলেছে আমাদের সঙ্গে। নয়ত আমরা আরও ভালও প্রস্তুতি নিতে পারতাম।

তবে রিক স্কটের অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে চীন বলছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রকে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেছিল জানুয়ারি মাসের চার তারিখে। তখনও পর্যন্ত এই রোগের কথা মানুষ ভালভাবে জানতেই পারেনি।

বেইজিং জানায়, তারা খোলাখুলি, স্বচ্ছ এবং দায়িত্বশীল ভাবে তথ্য প্রকাশ করেছে। জানুয়ারি মাসের গোড়ায় চীনের রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের প্রধান যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের প্রধানকে টেলিফোনে যে ব্রিফিং দিয়েছিলেন তা চীন নতুন প্রকাশিত নথিতে তুলে ধরেছে।

নতুন নথিতে চীনা কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করেছে, করোনা নিয়ে মার্কিন প্রশাসনকে বিস্তারিতভাবে জানানো হয়েছিল কীভাবে তারা এই ভাইরাস মোকাবেলা করছে।

প্রসঙ্গত, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি চীনের উহান থেকে করোনার উৎপত্তি হয়। এখন পর্যন্ত করোনায় মৃতের সংখ্যা ৪ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্বজুড়ে আক্রান্ত হয়েছেন ৬৯ লাখেরও বেশি লোক। শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই মারা গেছেন এক লাখ ১০ হাজারের কাছাকাছি মানুষ। সেই তুলনায় চীনের মৃতের সংখ্যা মাত্র  ৪ হাজার ৬৩৮ জন। 

সংক্রমণের ৫ মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কার্যকরী কোনো চিকিৎসা বের করতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। ভ্যাকসিন আবিষ্কারের জন্য কঠোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, অন্তত ৭০টিরও বেশি ভ্যাকসিন গবেষণা চলছে বিশ্বজুড়ে। এর মধ্যে এগিয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও চীন।

এদিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং জানিয়েছেন, দেশটি যদি সবার আগে ভ্যাকসিন আবিষ্কার করতে পারে তাহলে বিশ্বে সেটি বিতরণ করা হবে। উন্নয়নশীল দেশগুলো যাতে সেটি পায় তা নিশ্চিত করা হবে।