নেপালে আটকে থাকা ৩৬ জন পরিযায়ীদের ফেরানোর পর এবার আরও ১০০০ জন শ্রমিককে বাড়ি ফেরানোর উদ্যোগ নিলেন পশ্চিমবঙ্গের সাংসদ অভিনেতা দেব। শুধু নেপালে আটকে থাকা বঙ্গবাসীদেরই নয়, বরং জম্মু-কাশ্মীর থেকেও শ্রমিকদের ফেরানোর বন্দোবস্ত করেছেন তিনি। অনুরোধ এসেছে দেশের সীমানা ছাড়িয়েও। এই মুহূর্তে দুবাইয়ে আটকে থাকা বাংলার পরিযায়ীরাও তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আরজি জানিয়েছেন সাংসদকে।
সাংসদের উদ্যোগে দিন দুয়েক আগেই বাংলার ৩৬ জন পরিযায়ী শ্রমিক বাড়ি ফিরেছেন। যাদের মধ্যে ছিলেন ২ অন্তঃসত্ত্বা মহিলাও। ভারত-নেপাল সীমান্তে আটকে পড়া মানুষগুলোর জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় থেকে বিশেষ অনুমতি নিয়ে ফিরিয়ে এনেছেন তাদের। এদের বেশিরভাগই দেবের সংসদীয় এলাকা ঘাটালের বাসিন্দা। বাড়ি ফেরা পরিযায়ীদের তালিকায় বাঁকুড়া, আরামবাগের লোকেরাও রয়েছেন। তারপর থেকেই সাংসদের কাছে একের পর এক পরিযায়ীদের পরিবার থেকে অনুরোধ আসা শুরু করে। যারা পেটের দায়ে বাংলা থেকে নেপালে কাজ করতে গিয়েছিলেন, এমন মোট ১০০০ জন পরিযায়ী শ্রমিকদের নাম তালিকাভুক্ত হয়েছে এখন অবধি। এরা প্রত্যেকেই ঘাটালের বাসিন্দা।
ইতিমধ্যেই সাতটি বাসের বন্দোবস্ত করে ফেলেছেন অভিনেতা। সবাইকে একেবারে নিয়ে আসা সম্ভব নয়, তাই বাসগুলো নিজেরাই দফায় দফায় পরিযায়ীদের নিয়ে নেপাল থেকে তাদের নিয়ে আসবে। শুক্রবার বিকেলেই ৫টা নাগাদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দপ্তর থেকে অনুমতি পেয়েছেন দেব। এদের মধ্যে অনেকেই আবার ভারত-নেপাল সীমান্তে আটকে রয়েছেন।
এদিন রাতেই আবার দুবাইয়ে আটকে থাকা ১৮০ জনের সন্ধান পেয়েছেন দেব। সেখানকারই একজন ফোন করে সাংসদকে ফোন করে আরজি জানিয়েছেন তাদের বাড়ি ফিরতে সাহায্য করার জন্য। এপ্রসঙ্গে সাংসদ জানিয়েছেন, ‘জানি না আমি কতটা পারব। তবে আমি সব রকমভাবে পাশে থাকব।’
অন্যদিকে ঘাটালের ৫০ জন জম্মু সীমান্তে আটকে রয়েছেন। বাড়ি ফেরার জন্য বাসের বন্দোবস্ত তারা নিজেরাই করেছিলেন। কিন্তু বাস নিয়ে রাজ্যের সীমান্ত না পেরোনোর অনুমতি পাননি। ফলে ৩ দিন থেকে সেখানেই আটকে রয়েছেন তারা। সেই মানুষগুলোকেও বাড়ি ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ। এ প্রসঙ্গে তৃণমূল সাংসদ দীপক অধিকারী ওরফে দেবের মন্তব্য, ‘এটা নিজের ঢাক নিজে পেটানোর সময় নয়! বরং দুস্থ মানুষগুলো যারা বাড়ি ফিরতে পারছেন না, তাদের পাশে দাঁড়ানোর সময়।’