সুনামগঞ্জে বকেয়া বেতনের দাবিতে স্বাস্থ্যকর্মীদের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে পুলিশের লাটিপেটা ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন স্বাস্থ্য বিভাগের ১০ কর্মচারী। গতকাল রবিবার দুপুর ১২টার দিকে সুনামগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয় চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৬ মহিলা কর্মচারীসহ ৮ জনকে আটক করে পুলিশ।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল ও ১১ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আউট সোর্সিংয়ে কাজ করা ২৩৪ জন কর্মচারী ১২ মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে দীর্ঘদিন থেকে আন্দোলন করে আসছেন। ১২ মাস ধরে বিনা বেতনে কাজ করছেন এসব কর্মচারী। এর মধ্যে তাদের বেতন না দিয়েই গতকাল রবিবার নতুন করে আউট সোর্সিংয়ে কর্মচারী নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে এমন খবর পেয়ে বিভিন্ন উপজেলা থেকে কর্মচারীরা জড়ো হয়ে সিভিল সার্জন কার্যালয় ঘেরাও করেন। সকাল থেকেই তারা সেখানে বিক্ষোভ করতে থাকেন। সিভিল সার্জন কার্যালয় ভবনের মূল ফটক তালাবদ্ধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন আন্দোলনকারীরা। দুপুর ১২টার দিকে পুলিশ এসে তাদের সরে যেতে বললে তারা মিছিল করতে থাকেন। পরে পুলিশ তাদের লাঠিপেটা করে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশের লাটিপেটায় আহত হন ১০ কর্মচারী। এ সময় আন্দোলনকারীরা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী দুপক্ষের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকে। পরে পুলিশ এক ঘণ্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় পুলিশ আন্দোলনরত ৮ কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায়।
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, অস্থায়ী স্বাস্থ্যকর্মীদের বিক্ষোভের কারণে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে দরপত্র জমাদান প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। এ সময় কিছুটা হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। আমরা ছয়জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে এসেছি। কাউকে লাঠিপেটা করা হয়নি।
সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন মোহাম্মদ শামস উদ্দিন জানান, যে প্রতিষ্ঠান লোক সরবরাহ করেছে বেতন-ভাতা তাদেরই দেওয়ার কথা। তারপর আমরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা বলেছে বিল প্রস্তুত আছে, বিল পাওয়া গেলেই কর্মীদের বেতন দেওয়া হবে। তিনি বলেন, রবিবার এসব কর্মী আমার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন ও দরপত্র জমাদানে বাধা দেন। পরে পুলিশ তাদের সরিয়ে দিয়েছে।