দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বিদ্যুৎ বিভাগের অসহযোগিতার কারণে উপজেলার ২১ নম্বর মন্মথপুর চৈতাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন দ্বিতল ভবনের কাজ চার মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। সিডিউল অনুযায়ী আগামী ৩০ জুনের মধ্যে নির্মাণাধীন স্কুলের দ্বিতল ভবনের কাজ শেষ হওয়ার কথা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ না হলে নির্মাণ সামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধির কারণে যেমন প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধির শঙ্কা রয়েছে, তেমনিভাবে করোনাভাইরাস বিস্তারের কারণে থমকে থাকা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম চালু হলে বিদ্যালয় ভবনের অভাবে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পরিবেশ বিঘিœত হওয়ারও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, ১৯৮৮ সালে স্থানীয় বিদ্যানুরাগী ব্যক্তিদের উদ্যোগে ২১ নম্বর মন্মথপুর চৈতাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। আজ থেকে প্রায় চার মাস আগে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্পের (পিইডিপি-৪) আওতায় ৬৯ লাখ ৯৪ হাজার ৯০০ টাকা ব্যয়ে এ বিদ্যালয়ের নতুন দ্বিতল স্কুল ভবনের নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। কিন্তু বিদ্যালয় ভবনের ওপর দিয়ে বিপজ্জনক ১১ কেভি বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইন থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় বাকি নির্মাণকাজ স্থগিত করে দেয়।
বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মতিয়ার রহমান স্কুলের ওপর দিয়ে যাওয়া বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন সরিয়ে নেওয়ার জন্য গত ২ ফেব্রুয়ারি দিনাজপুর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-২ এর পার্বতীপুর জোনাল অফিসের ডিজিএমের কাছে আবেদন করেন। কিন্তু দীর্ঘদিনেও পল্লীবিদ্যুৎ অফিস সঞ্চালন লাইন সরিয়ে নেওয়ার কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। উল্টো ডিজিএম বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন সরিয়ে নেওয়ার খরচ বাবদ স্কুলের প্রধান শিক্ষককে ৪৩ হাজার ৭৯১ টাকা জমাদানের জন্য ‘ডিমান্ড নোট’ প্রদান করেন।
পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি দিনাজপুর-২ এর পার্বতীপুর জোনাল অফিসের ডিজিএম আব্দুল আলীম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সরকারি অর্থায়নে কাজ করতে চাইলে নতুন প্রকল্প না আসা পর্যন্ত ওনাদের অপেক্ষা করতে হবে।