ঝড়ের কবলে পড়ে সুন্দরবনের খালে আশ্রয় নেয়া জেলে ট্রলারে হানা দিয়ে বিপুল পরিমাণ মাছ ও নগদ টাকাসহ প্রায় ৩ লাখ টাকার মালামাল লুটে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে বনরক্ষীদের বিরুদ্ধে।
শুধু তাই নয়, চাহিদার আরও দুই লাখ টাকা না পেয়ে ১৩ জেলেকে বাঘ ও কুমিরের মুখে ছেড়ে দেয়া হয় গভীর বনে। টানা তিনদিন বনের মধ্যে হিংস্র প্রাণীর মুখোমুখি হয়ে প্রাণ নিয়ে পায়ে হেঁটে লোকালয়ে ফিরে আসেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী জেলেরা।
মঙ্গলবার দুপুরে মোংলা প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে বনরক্ষীদের লুটপাট ও মারধরসহ বনের মধ্যকার লোমহর্ষক বর্ণনা দেন তারা।
জেলে ও ট্রলার মালিক মো. আব্দুর রশিদ লিখিত বক্তব্যে জানান, গত ৭ মে বনবিভাগের দুবলা ফরেস্ট স্টেশন থেকে বৈধ পাস পারমিট (অনুমিত) নিয়ে দুইটি ট্রলারযোগে ১৩ জেলে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যান।
ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আগ মুর্হূতে হঠাৎ সমুদ্র উত্তাল হয়ে উঠায় দিক ভুল করে সাগর সংলগ্ন সুন্দরবনের বেহালা কয়লা খালে আশ্রয় নেন তারা।
এদিন সন্ধ্যায় পশ্চিম সুন্দরবনের বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা মো. আখতারুজ্জামান, বনরক্ষী রাসেল, কাওছার, আমজাদ ও বন বিভাগের বোট চালক আসাদসহ আরও ৩ থেকে ৪ জন বনরক্ষী বনে আশ্রয় নেয়া জেলেদের ট্রলারে উঠে মারধরসহ ১৫ মণ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, বেশ কয়েকটি জাল, ৬শ লিটার জ্বালানি তেল ও নগদ ৪৫ হাজার নগদ টাকা লুটে নেয় বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন জেলেরা।
এছাড়া মারধর ও শারীরিক নির্যাতনসহ রাইফেল দিয়ে ফাঁকা গুলি ছুড়ে জেলেদের ভয়ভীতি দেখানো হয়। কেড়ে নেয়া হয় তাদের সঙ্গে থাকা বন বিভাগের বৈধ পাস পারমিটও। আর বনরক্ষীদের চাহিদার আরও ২ লাখ টাকা দিতে না পারায় ট্রলার আটকে রেখে ১৩ জেলেকে গভীর বনে বাঘ-কুমির মুখে বনে মধ্যে ছেড়ে দেয়া হয়।
জেলেরা অভিযোগ করেন, তাদের ট্রলার আটকে বনরক্ষীরা এখনও ঘুষের টাকার দাবিতে নানা টালবাহানা করে চলছে। টাকা না দিলে ট্রলার ও এ সকল জেলেদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হবে বলেও বন কর্মকর্তা মো. আখতারুজ্জামান তাদেরকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন।
বনরক্ষীরা দুইটি ট্রলার, মাছ, জাল ও নগদ ৪৫ হাজার টাকা নেয়াতে মোট প্রায় ১০ লাখ টাকার বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে দাবি জেলেদের। এ অবস্থায় আর্থিক ক্ষতিতে পরিবার পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান ক্ষতিগ্রস্ত জেলেরা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠক করেন জেলে ও ট্রলার মালিক ম. আ. রশিদ। তিনি মোংলার চাঁদপাই ইউনিয়ন জেলে সমিতির সাধারণ সম্পাদক। তার এ সমিতিতে সদস্য রয়েছে সাড়ে ৩শ। এ ইউনিয়নে সমিতি ও সমিতির বাহিরের মিলিয়ে মোট জেলের সংখ্যা ১৩শ জন।
এ ঘটনার বিষয়ে জানতে পশ্চিম সুন্দরবনের বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা মো. আখতারুজ্জামানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।