চাকরিচ্যুতির ভয় দেখিয়ে নার্সকে যৌন হয়রানি, চিকিৎসক গ্রেপ্তার

পটুয়াখালীর বাউফলে চাকরিচ্যুতির ভয় দেখিয়ে নার্সকে যৌন হয়রানির অভিযোগে মো. শাহ আলম (৬৫) নামে এক চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে শহরের পাবলিক মাঠ লাগোয়া জাহাঙ্গীর টাওয়ার থেকে তাকে আটক করা হয়।

গ্রেপ্তার শাহ আলম বাউফল হেলথ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড ক্লিনিকের অ্যানেসথেসিয়া বিভাগের চিকিৎসক। তিনি এক সময় বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা পদে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি বাউফলের দাশপাড়া ইউনিয়নের দাশপাড়া গ্রামে।

জানা যায়, বাউফল পৌর শহরের হাসপাতাল সড়কের বাউফল হেলথ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড ক্লিনিকে কর্মরত ফিজিশিয়ান নারী কর্মীকে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করতেন চিকিৎসক শাহ আলম। এ নিয়ে যখনই ওই নারী প্রতিবাদ করতেন তখনই তাকে চাকরিচ্যুত করার হুমকি দিতেন শাহ আলম। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৭ জুন চিকিৎসক শাহ আলম ওই নারীকে ক্লিনিকের একটি কক্ষে ডেকে নিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে আপত্তিকর কাজ করাতে (শরীর ম্যাসাজ) বাধ্য করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই নারী কর্মী ক্লিনিকের পরিচালককে বিষয়টি জানালেও কোনো প্রতিকার পাননি। উল্টো যৌন হয়রানির বিষয়টি যাতে কোথাও প্রকাশ না করেন সেজন্য স্থানীয় দাশপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এন এম জাহাঙ্গীর হোসেন ওই নারীকে হুমকি দেন। একপর্যায়ে অতিষ্ঠ হয়ে ওই নারী কর্মী গত সোমবার রাতে ডা. শাহ আলম, বাউফল হেলথ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড ক্লিনিকের পরিচালক মো. জলিল এবং হুমকিদাতা এন এম জাহাঙ্গীর হোসেনকে আসামি করে বাউফল থানায় একটি মামলা করেন। এরপর ওই রাতেই জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার মো. ফারুক হোসেনের নেতৃত্বে ডা. শাহ আলমকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানো হয়। কিন্তু তিনি ঘরের দরজা না খোলায় গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। এরপর সারা রাত পুলিশ তার বাসা ঘেরাও করে রাখে। পরে গতকাল দুপুর ১টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বাউফল থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চিকিৎসক শাহ আলমকে গ্রেপ্তার করে পটুয়াখালীর আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’