স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিকেলে বসছে বাজেট অধিবেশন

করোনাভাইরাস সংক্রমণজনিত বৈশ্বিক মহামারীর মধ্যে আজ বুধবার সংসদ অধিবেশন বসছে। স্পিকার ডক্টর শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিকেল ৫টায় বৈঠক শুরু হবে। এই অধিবেশনেই বৃহস্পতিবার ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

করোনাভাইরাস সংক্রমণকালে অনুষ্ঠেয় বাজেট অধিবেশনে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েছে জাতীয় সংসদ। সংসদ সচিবালয়ের বাজেট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাইরে অন্যদের যেতে নিষেধ করা হয়েছে।

সংসদে যেতে ইতিমধ্যে নিষেধ করা হয়েছে করোনা আক্রান্ত সাংসদ ও বয়োজ্যেষ্ঠ সাংসদেরও। এর সংখ্যা প্রায় ৩৫ জন। সাড়ে ৩শ সংসদ সদস্যের মধ্যে ৩৫ জনকে বাদ দিয়ে বাকি যারা রয়েছেন তাদের চার ভাগ করা হয়েছে। অর্থাৎ একজন সাংসদের এই অর্থবছরের বাজেট অধিবেশনে মাত্র তিন দিন সংসদে গেলেই চলবে।

তবে প্রধানমন্ত্রী সংসদ নেতা শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা, অর্থমন্ত্রী, সরকার দলীয় চিফ হুইপ ও বিরোধীদলীয় হুইপ প্রতিদিন সংসদে উপস্থিত থাকতে পারবেন। এর বাইরে অন্য সবাইকে ১২ কার্যদিবসের এই বাজেট অধিবেশনে মাত্র তিন দিন সংসদে উপস্থিত থাকলেই চলবে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে একেকটি অধিবেশনে ৭৫/৮০ সংসদ সদস্য সংসদের উপস্থিতি নিশ্চিত করে আসন বণ্টন করা হয়েছে বলে জানান সরকারদলীয় হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, এতে করে কোরাম সংকটও থাকবে না।

স্বপন বলেন, আমরা অসুস্থ ও বয়োজ্যেষ্ঠ সাংসদদের এই অধিবেশনে উপস্থিত না থাকার অনুরোধ জানিয়েছি। বাকি যারা রয়েছেন তাদের চারটি ভাগে বিন্যাস করা হয়েছে। এতে করে প্রতি কার্যদিবসে ৭৫/৮০ জনের বাইরে কেউ থাকতে পারছেন না।

স্বপন বলেন, আমরা দূরত্ব নিশ্চিত করা ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে বাজেট অধিবেশনকে এভাবে সাজিয়েছি।

প্রধানমন্ত্রীর আশপাশের বেশ কয়েকটি আসন ফাঁকা রাখা হবে। এক্ষেত্রে সংসদের প্রধান হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরীকে আরও এক সারি পেছনে এবং প্রধানমন্ত্রীর ডান পাশের আসনের সংসদ সদস্য মতিয়া চৌধুরীসহ অন্যদের আরও কয়েক আসন দূরে বসানোর ব্যবস্থা করা হবে।

অধিবেশন শুরুর দিন আজ বুধবার অধ্যাদেশ উত্থাপন এবং শোক প্রস্তাব গ্রহণের মধ্য দিয়ে কার্যক্রম শেষ করা হবে। ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগ নেতা হাবিবুর রহমান মোল্লা মারা গেছেন। তার মৃত্যুতে শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনা ও তা গ্রহণের পর সংসদের বৈঠক মুলতবি করা হবে। পরের দিন ১১ জুন বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় অধিবেশন শুরু হবে। বাজেট পেশ ও অর্থ বিল উত্থাপনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে দিনের কার্যক্রম। এরপর ১২ ও ১৩ জুন বৈঠক মুলতবি রাখা হবে। ১৪ এবং ১৫ জুন সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনা ও সম্পূরক বাজেট পাস করা হবে।

পরদিন শুরু হবে প্রস্তাবিত সাধারণ বাজেটের ওপর আলোচনা। ১৬ জুন মঙ্গলবার ও ১৭ জুন দুদিন আলোচনা শেষে ১৮ জুন থেকে ২১ জুন পর্যন্ত অধিবেশন মুলতবি থাকতে পারে।

এরপর ২২ জুন থেকে ২৪ জুন আরও তিন দিন এ বাজেটের ওপর আলোচনা করে ২৫ জুন থেকে ২৮ জুন চারদিনের বিরতি দেওয়া হতে পারে। ২৯ জুন সোমবার বাজেটের ওপর সমাপনী আলোচনা হবে। এদিনই পাস হবে অর্থবিল।

পরদিন ৩০ জুন মূল বাজেট ও নির্দিষ্টকরণ বিল পাস হবে। এরপর আরেকটি বিরতি দিয়ে ৮ বা ৯ জুলাই একদিনের জন্য অধিবেশন বসে ওইদিনই সমাপ্তি টানা হতে পারে।

১১ জুন বাজেট পেশের পর ২০২০-২১ অর্থবছরের সাধারণ বাজেট নিয়ে আলোচনা হবে ৬ দিন। আর চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট নিয়ে আলোচনা হবে দুদিন। সব মিলিয়ে বাজেটের ওপর ২০ থেকে ২২ ঘণ্টা আলোচনা হবে।

সংসদের আইন শাখার প্রকাশিত ক্যালেন্ডার অনুযায়ী অধিবেশন শুরু ও বাজেট পেশের দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল সাড়ে ১০টায় সংসদের বৈঠক বসবে। আর দেড়টা পর্যন্ত চলবে।