রেমডিসিভিরে ফুসফুসের ক্ষতি প্রতিরোধের ‘প্রমাণ মিলেছে’

মার্কিন ফার্মাসিউটিক্যালস গিলিয়াডের রেমডিসিভির ইনজেকশন করোনা আক্রান্তদের ফুসফুস রক্ষা করতে পারে বলে ‘কার্যকর প্রমাণ’ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। মঙ্গলবার নেচার জার্নালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনায় আক্রান্ত বানরের ওপর গবেষণা করে এই প্রমাণ পাওয়া গেছে।

গত এপ্রিলে মার্কিন বিজ্ঞানীরা প্রথম এ ব্যাপারে তথ্য দেন। কিন্তু ওই সময় কোনো মেডিকেল জার্নাল থেকে একাডেমিক বৈধতা দেয়া হয়নি।

রেমডিসিভির প্রথম ওষুধ যেটি করোনা প্রতিরোধে মানুষের শরীরে কার্যকর বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। বাংলাদেশসহ পৃথিবীর অধিকাংশ দেশ এই ওষুধটি ব্যবহার করছে।

এতদিন বলা হচ্ছিল, রেমডিসিভির ব্যবহারে সুস্থতার সময় কমে আসে। অর্থাৎ অন্য ওষুধ ব্যবহারে কভিড-১৯ রোগী যে সময়ে সুস্থ হন, তার থেকে এই ওষুধে কম সময় লাগে।

রয়টার্স জানিয়েছে, ১২টি বানরকে নতুন ভাইরাসে সংক্রমিত করে রেমডিসিভির ইনজেকশন দেয়া হয়। এদের মধ্যে অর্ধেককে সংক্রমণের শুরুর দিকে এই ওষুধে চিকিৎসা শুরু করা হয়।

রেমডিসিভির দেয়ার পর কোনো বানরের শ্বাসযন্ত্রের রোগের লক্ষণ দেখা যায়নি। একই সঙ্গে তাদের ফুসফুসের ক্ষতি কমিয়েছে ওষুধটি।

গবেষকেরা এও বলছেন, রেমডিসিভিরে চিকিৎসা দেয়া প্রাণীদের ফুসফুসে ভাইরাসও কম পাওয়া গেছে।

গবেষকদের পরামর্শ, করোনা পজিটিভ হওয়ার পর নিউমোনিয়া প্রতিরোধে রোগীদের যত দ্রুত সম্ভব রেমডিসিভির দেয়া উচিত।

গত এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের কিনিক্ল্যাল ট্রায়ালে জানানো হয়, রেমডিসিভির প্রয়োগে রোগীদের হাসপাতালে কম সময় থাকার প্রয়োজন হয়েছে।

গত সপ্তাহে গিলিয়াডের নিজস্ব ট্রায়াল শেষে বলা হয়, রেমডিসিভিরের পাঁচটি কোর্সে মাঝারি লক্ষণের রোগীরা দ্রুত উপকার পান।

বাংলাদেশে এই ওষুধটির দুই ধরনের ডোজ আছে-৫ দিনের ও ১০ দিনের। ১০ দিনের ডোজে ৫৫ হাজার টাকার মতো এবং ৫ দিনের ডোজে ৩০ হাজার টাকার মতো খরচ পড়ে।