মহামারির মতো দুর্যোগ মানুষের সামাজিক সম্পর্কতো বটেই, আমাদের চিরদিনের শাশ্বত সম্পর্কগুলোও কেমন বদলে দেয়। সম্প্রতি দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি সমাজ ও স্বজনদের এ ধরনের আচরণের খবর আমাদের মানবিক মূল্যবোধে আঘাত করেছে। তবে, এসবের বাইরেও কিছু কিছু ঘটনা, কিছু কিছু ছবি আমাদের ফের মনে করিয়ে দেয় মানবিকতার কথা, সম্পর্কের কথা, বন্ধনের কথা।
করোনা মহামারির প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার পর ভাইরাস সংক্রমণের উপসর্গ দেখা দেয়ায় বাবা বা মাকে সন্তানরা রাস্তায়, হাসপাতালে এমনকি জঙ্গলে ফেলে রেখে যাওয়ার খবর আমরা পেয়েছি। আবার ভাই বোনকে, বোন ভাইকে রেখে সংক্রমণের ভয়ে চলে যাওয়ার কথাও আমরা জেনেছি। এ তো গেল স্বজনদের কথা, বাসায় করোনা রোগী থাকায় কথিত এলাকার লোকজন বাসা ছাড়তে বাধ্য করেছে, এমন ঘটনার কথাও আমরা জানি।
মহামারি আমাদের এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার মুখোমুখি করে দেয়। আবার এই দুর্যোগে এমন ঘটনাও আমরা জানতে পারি যা আমাদের কাঙ্ক্ষিত মানবিক সম্পর্কে ফের আস্থা ও বিশ্বাস তৈরি করে দেয়। আমরাও এসব ছবি ও ঘটনা বেশি করে আঁকড়ে ধরে মানুষ হিসেবে নিজেদের পরিচয় তুলে ধরে যে কোন দুর্যোগ পার হয়ে যাওয়ার সাহস সঞ্চয় করতে পারি।
বুধবার আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে এসপি হিসেবে কর্মরত রাহমান শেলী নিজের ফেইসবুক প্রোফাইলে তেমন একটি ছবিই শেয়ার করেছেন। ছবিটি ঢাকা মেডিকেল থেকে তোলা। সেখানে দেখা যায়- করোনা আক্রান্ত বাবার শ্বাসকষ্ট লাঘবের জন্য সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়েই এক ছেলে নিজের বুকে বালিশ রেখে বাবাকে শুইয়ে রেখে একটু আরাম দেয়ার জন্য চেষ্টা করতে করতে ঘুমিয়ে পড়েছেন।
ছবিটি নেটিজেনদের মধ্যেও সাড়া ফেলেছে। শেলী তার ফেইসবুক পোস্টে অবশ্য এই বাবা ও ছেলের নাম-পরিচয় প্রকাশ করেন নি।
রাহমান শেলী ছবিটি শেয়ার করে লিখেছেন-
বাবা করোনাতে আক্রান্ত হয়ে খুব শ্বাসকষ্টে আছে। তাইতো সন্তান নিজের বুকে বালিশ রেখে সারাটা রাত এভাবেই বাবাকে একটু শান্তিতে শ্বাস নিয়ে ঘুমাতে সহায়তা করতে করতে কখন যে নিজের অজান্তেই ঘুমিয়ে গেছে!
যেখানে করোনাতে মৃত ব্যক্তিকে তার সন্তান দেখতে পর্যন্ত যায় না, সেখানে এই করোনা আতঙ্কের ভেতর এমন সন্তান সত্যি সূর্যসন্তান।