স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে গৃহকর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগ

গৃহকর্মী ও পড়াশোনার কথা বলে জেলা শহরের বাসায় নিয়ে গিয়ে গত তিন মাস ধরে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার এক কিশোরীকে (১৫) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে মো. ইউনুস আলী নামে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত এই শিক্ষক গাইবান্ধা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। ইউনুস আলী সুন্দরগঞ্জের তারাপুর ইউনিয়নের নওহাটী চাচীয়া গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে। এ ঘটনায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে গত মঙ্গলবার রাতে গাইবান্ধা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। 

মামলা এবং ওই কিশোরীর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের প্রথম দিকে নওহাটী চাচীয়ায় গ্রামের বাড়ীতে গিয়ে আপন চাচাতো ভাইয়ের কিশোরী মেয়েকে গাইবান্ধা জেলা শহরের বাসায় নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন মো. ইউনুস আলী। সেখানে ওই কিশোরী বাসার কাজ করবে ও তাকে পড়াশোনা করাবেন বলেও কিশোরীর পরিবারকে কথা দেন এই শিক্ষক।

এরপর করোনাভাইরাসের কারণে মার্চের মাঝামাঝিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হলে ওই শিক্ষক বাসাতেই থাকতেন। সেসময় থেকে পরিবারের সদস্যদের আড়ালে জোড় করে কিশোরীর শরীর স্পর্শসহ মোবাইলে ও কম্পিউটারে পর্ণভিডিও দেখাতেন। এ সময় একদিন বাসায় কেউ না থাকার সুযোগে ওই কিশোরীকে গোসল করার সময় বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করেন। তারপর থেকে সবার অজান্তেই নিয়মিত ধর্ষণ করতেন শিক্ষক মো. ইউনুস আলী। ধর্ষণের ঘটনা কাউকে না জানাতে তিনি কোরআন শরীফ, জায়নামাজ ও মাথা ছুঁইয়ে শপথ করান।

কয়েকদিন আগে কিশোরীটিকে ধর্ষণের বিষয়ে জানতে পেরে ইউনুস আলীকে বাসা থেকে তাড়িয়ে দেন ও কিশোরীকে গ্রামের বাড়ীতে পাঠিয়ে দেন ওই শিক্ষকের স্ত্রী। এতে সন্দেহ হলে কিশোরীটিকে জিজ্ঞাসা করলে সে তার পরিবারের কাছে সবকিছু জানায়।

এরপর জানাজানি হলে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ভুক্তভোগী পরিবারটিকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখায় অভিযুক্তের পরিবার। এতে কাজ না হওয়ায় নানা মাধ্যমে হুমকি দেন ভুক্তভোগী পরিবারটিকে। এমনকি পরিবারের কেউ যাতে বাড়ির বাহিরে যেতে না পারে সেজন্য তাদেরকে অবরুদ্ধ করে রাখেন ওই শিক্ষকের লোকজন। 

ভুক্তভোগী কিশোরী জানায়, ইউনুস আলী কয়েক মাস থেকেই বিভিন্ন রকমের খারাপ আচরণ করতেন। ধর্ষণের ঘটনা শিক্ষকের স্ত্রীকে বলে দেওয়ার কথা বললে তিনি বলেন- তোর কথা কেউ বিশ্বাস করবে না। কিছু বলার দরকার নেই বরং তোর যা দরকার আমাকে বলিস সব দিবো। এরপর গ্রামের বাড়ীতেও যেতে দেননি আমাকে। প্রতিদিনই ধর্ষণ করতেন তিনি। এমনকি রাতে ঘুমানোর আগে ও ভোরারাতে সেহেরী খেয়ে ঘুমানোর আগেও ধর্ষণ করতেন। 

কিশোরীটির বাবা জানান, এক রকম জোড় করেই ইউনুস আলী মেয়েটিকে নিয়ে যান শহরের বাসায়। এরপর মেয়েকে বাড়ীতে পাঠিয়ে দেওয়ার পর ইউনুস আলীর বাবাকে জানালে তিনি সমাধান না করে উল্টো ওই মেয়ের পরিবারকে শাসান। পরে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে জানাতে গেলে চেয়ারম্যানের সামনেই হুমকি দেন ওই শিক্ষকের লোকজন। 

এ ব্যাপারে জানতে অভিযুক্ত শিক্ষক ইউনুস আলীর মুঠোফোনে ফোন করা হলে বন্ধ পাওয়া যায়। 

এ বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো, শাহরিয়ার গতকাল বিকেলে দেশ রূপান্তরকে বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই কিশোরীর দাদি বাদী হয়ে সদর থানায় মঙ্গলবার রাতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করবে।