‘উপসর্গহীন রোগীর থেকে সংক্রমণ ছড়ানোর ব্যাপারটি এখনো বিরল মনে হচ্ছে’- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এমন বক্তব্য দিলেও ভিন্নমত জানিয়েছেন বাংলাদেশের বিজ্ঞানী ড. বিজন কুমার শীল।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ভাবে অনেক কিছুই। তারা অনেক পরে অনেক কিছু স্বীকার করে। এখন তারা বলছে, উপসর্গ না থাকা রোগীরা সংক্রমণ ঘটায় না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কিসের উপর ভিত্তি করে এ কথা বলেছে, আমি জানি না। এই বক্তব্য বা অবস্থানের সঙ্গে দৃঢ়ভাবে দ্বিমত পোষণ করছি। আমরা প্রতিনিয়ত গবেষণা করছি। গবেষণায় প্রমাণ মিলছে, উপসর্গহীন করোনা আক্রান্তদের লালায় প্রচুর পরিমাণে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি। তাদের লালায় যে পরিমাণ ভাইরাস পাচ্ছি, তা অন্যদের সংক্রমিত করবেই। উপসর্গহীনরাও ভাইরাস ছড়ায়, তারা অবশ্যই সংক্রমণের কারণ।’
সোমবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘অনেক রোগীকে উপসর্গহীন বলা হচ্ছে। আসলে তেমনটি নাও হতে পারে। হালকা উপসর্গ থাকতে পারে, যা দিয়ে রোগটি প্রাথমিকভাবে বোঝা যায়। যখন আমরা সত্যিকার অর্থে উসর্গহীন মানুষ খুঁজতে যাই, দেখা যায় তাদের হালকা লক্ষণ আছে।’
ড. বিজন শীল এ বিষয়ে বলেন, যাদের শরীরে কোনো প্রকার লক্ষণ নেই তাদের লালাতে প্রচুর পরিমাণে ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যাচ্ছে। এই মানুষগুলো আমাদের জন্য ভয়ের কারণ। তারা অসুস্থ নন, সম্পূর্ণ সুস্থ। কিন্তু, তাদের কথা বলার সময় বা বিভিন্নভাবেই থুতুর সঙ্গে ভাইরাসটি আমাদের মাঝে ছড়াচ্ছে। আর শেষ গ্রুপ হচ্ছে যারা এখনও ভাইরাসটির সংস্পর্শে আসেননি। তাদের সংখ্যা অনেক বেশি। তাদেরও অনেকের মধ্যেই এ ভাইরাসের সংক্রমণ হবে, অনেকের হয়ত কোনো লক্ষণ দেখা যাবে না। তাদের মাধ্যমে ভাইরাসটি আরও ছড়াবে। যাদের বয়স একটু বেশি, অন্যান্য শারীরিক সমস্যা আছে তাদের জন্য এটি চিন্তার কারণ হতে পারে। এটা যেহেতু মহামারি আকার ধারণ করেছে, তাই আমরা কখনোই ভাবতে পারব না যে ভাইরাসটি থেকে আমরা দূরে থাকতে পারব।