বাংলা ২য় পত্রে স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের প্রবন্ধ ও রচনা লিখতে হয়। লেখার সময় নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখলে অনেক ভালো লিখতে পারবে। জানিয়েছেন ফয়সাল ইসলাম
রচনা বর্ণনার মধ্য দিয়ে বিষয়বস্তুকে ফুটিয়ে তুলতে হবে। বর্ণনামূলক রচনা লেখার সময়সীমা এবং পরিসরের কথা মনে রেখে তোমাদের বিশেষ কিছু দিক খেয়াল করতে হবে। সেগুলোর সাহায্যে মূল বিষয়বস্তুকে সংক্ষেপে উপস্থাপন করতে হবে।
রচনা লেখার সময় ধারাবাহিকতার দিকে লক্ষ রেখো। ভাবনাগুলো যেন এলোমেলো না হয়, সেদিকে খেয়াল রেখো। জানা বিষয় ছাড়াও অনেক সময় অজানা বিষয় নিয়েও তোমাদের রচনা লিখতে হতে পারে। বিষয়ের ধারণা একটির পর একটি এমনভাবে সাজাবে, যাতে ভাবের কোনো অসংগতি না থাকে।
রচনার আকার সাধারণত নির্দিষ্ট পরিসরের হয়। স্বল্প পরিসরে তাই রচনার সামগ্রিক বিষয় তুলে ধরতে হয়। অযথা বিষয়কে প্রলম্বিত করো না। অপ্রয়োজনীয় ও অপ্রাসঙ্গিক বাক্য লেখা থেকে বিরত থেকো। মনে রাখবে এক কথায় রচনা খুব ছোট বা খুব বড় হবে না।
আর প্রবন্ধ লিখলে প্রবন্ধের ভাষা সহজ এবং প্রাঞ্জল হবে। সন্ধি, সমাসবদ্ধ পদ, অপরিচিত বা অপ্রচলিত শব্দ চেষ্টা করবে বাদ দিতে। তোমাদের মনে রাখতে হবে অলংকারবহুল শব্দ ব্যবহার করা হলে অনেক সময় বিষয়টি জটিল ও দুর্বোধ্য হয়ে পড়ে। সাবলীল ও প্রাঞ্জল ভাষারীতির মাধ্যমে রচনাকে যথাসম্ভব রসম-িত ও হৃদয়গ্রাহী করার চেষ্টা করতে হবে।
প্রবন্ধ লেখার দক্ষতা অর্জনের জন্য প্রচুর প্রবন্ধ বা রচনা তোমাদের পড়তে হবে। পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত প্রবন্ধ, সংবাদ, প্রতিবেদন, ফিচার ইত্যাদি নিয়মিত পাঠ করলে নানা বিষয়ের ধারণা জন্মায় এবং শব্দভা-ার বৃদ্ধি পায়। এর ফলে লেখাও সহজ মনে হবে।
প্রবন্ধের বিষয়বস্তু সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা দরকার। প্রবন্ধের বিষয়বস্তু, যুক্তি, তথ্য, তত্ত্ব, বিচার-বিশ্লেষণ ইত্যাদি বিষয়ানুগ, প্রাসঙ্গিক ও সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া চাই। একই বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে, সেদিকে লক্ষ রেখো।
ভাষারীতিতে সাধু ও চলিত যেন মিশে না যায় সে ব্যাপারে খেয়াল রাখবে। অযথা অপ্রাসঙ্গিক তথ্য, উদ্ধৃতি ব্যবহার করবে না। বরং নিজের বক্তব্যকে জোরালোভাবে উপস্থাপন করতে প্রবাদ-প্রবচন, কবিতার পঙ্ক্তি উদ্ধৃতি ব্যবহার করতে পারো।
নিজের অভিজ্ঞতা, শিক্ষা, চিন্তাশক্তি, পঠন-পাঠন, ভাষাগত দক্ষতা ও উপস্থাপন কৌশল ইত্যাদির মাধ্যমে প্রবন্ধকে সুখপাঠ্য করে তুলবে।