যুক্তরাষ্ট্রের বিক্ষোভে ‘সক্রিয়’ হওয়ার চেষ্টা করছে আল-কায়েদা: বিবিসি

কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েডকে নির্মমভাবে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে গোটা যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সেই বিক্ষোভকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক ইসলামি জঙ্গিগোষ্ঠী আল-কায়েদা।

বিবিসি জানায়, মুসলিম ও অমুসলিম উভয়ের কাছেই নিজেকেও 'বৃহৎ নিপীড়ত' হিসেবে উপস্থাপনের জন্য বর্ণবাদ বিরোধী বিক্ষোভে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে জঙ্গিগোষ্ঠীটি।

আল কায়েদার অনলাইন ম্যাগাজিন ওয়ান উম্মাহর নতুন সংখ্যায় জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর শেষ মুহূর্তের একটি 'আইকনিক' চিত্র ব্যবহার করা হয়েছে। বিখ্যাত গ্রাফিতি শিল্পী বাঙ্কসি সেই ছবিটি এঁকেছিলেন। এর মাধ্যমে রাস্তায় বিক্ষোভকারীদের প্রতি নিজেদের সমর্থন পৌঁছে দিতে চায় গোষ্ঠীটি।

ইংরেজি ভাষার ম্যাগাজিনটিতে স্পষ্টভাবে মার্কিন নাগরিকদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। সেখানে তারা যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থা সেইসঙ্গে অর্থনীতি ও সমাজ ব্যবস্থার আসন্ন মৃত্যু নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেছে।

ম্যাগাজিনের ভূমিকায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সশস্ত্র বিক্ষোভ এবং গৃহযুদ্ধের সূচনা হলো বলে। তবে ডেমোক্রেটরাও আপনাদের সহায়তা দিতে পারবে না যেটা আমরা পারি।  

বিবিসি মনিটরিংয়ের মিনা আল-লামি বলেন, আল-কায়েদা এবং এর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট-আইএসের মধ্যে বিক্ষোভকে ঘিরে অবস্থানগত পার্থক্য রয়েছে। আইএস শুধু বিক্ষোভের দিকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং এই বিক্ষোভ অন্য দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়বে সেই আশঙ্কা করে ভবিষ্যদ্বাণী করেছে। সেদিক দিয়ে আল কায়েদা বরং নিজেরাই বিক্ষোভকারীদের কাছে পৌঁছতে চাইছে সেইসঙ্গে নিজেদের ইসলামি বিশ্বাসের প্রতি আমেরিকানদের কাছে টানার চেষ্টা করছে।

তার ভাষ্য, আমাদের বিশ্লেষকদের মতে ম্যাগাজিনটিতে যিনি লিখেছেন যুক্তরাষ্ট্রে কী হতে চলেছে সেই বিষয়ে তার বেশ ভাল জ্ঞান আছে।

লন্ডনের কিংস কলেজের আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ ড. শিরাজ মাহেরের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আল কায়েদা বড় আকারে আরেক ইসলামি জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) মধ্যে ঢুকে পড়লেও এখন সক্রিয়ভাবে চেষ্টা করে বৈশ্বিকভাবে নিজেদের গুরুত্ব হাজির করতে।

তিনি বলেন, বর্ণবাদ বিরোধী বিক্ষোভ এই মুহূর্তে বড় ঘটনা। যা বিশ্বজুড়ে সেইসঙ্গে মিডিয়া এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে এমনকি সংস্কৃতি ও শিল্প অঙ্গনেও বড় ধরনের ঝাঁকুনি তৈরি করবে। ফলে আল কায়েদাও সেই জায়গাটাতে যেতে চাইছে এবং বলার চেষ্টা করছে-আমরাও এখানে আছি।