১০০ উপজেলার সব বয়স্ক ও বিধবা ভাতার আওতায় আসছেন

দেশের ১০০ উপজেলার সব দরিদ্র প্রবীণ ব্যক্তি বয়স্ক ভাতার আওতায় আসছেন। এসব উপজেলার সব বিধবা বা স্বামী পরিত্যক্তরাও ভাতার আওতায় আসছেন। এছাড়া প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বাজেট বক্তৃতায় এ কথা জানান।

দেশে মোট উপজেলার সংখ্যা ৪৯২টি। প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় নির্বাহী কমিটি (নিকার) সর্বশেষ হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জকে নতুন উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের দারিদ্র্যের হার অনুযায়ী উপজেলার একটি তালিকা রয়েছে। সেই তালিকায় বলা আছে দেশের কোন কোন উপজেলা সবচেয়ে দারিদ্র্যপ্রবণ। একই তালিকায় ধনী উপজেলার নামও রয়েছে। এ তালিকার ভিত্তিতেই সরকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করে থাকে। দেশের সবচেয়ে দরিদ্র উপজেলাগুলো উত্তরাঞ্চল জেলাগুলোর অন্তর্ভুক্ত। গাইবান্ধা, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও শেরপুরের প্রায় সব উপজেলাই দরিদ্র উপজেলার তালিকায় রয়েছে।

গতকাল অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় জানিয়েছেন, সবচেয়ে দারিদ্র্য ১০০ উপজেলায় বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী সব দরিদ্র প্রবীণ ব্যক্তিকে বয়স্ক ভাতার আওতায় আনা হবে। এ খাতে ৩০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি দারিদ্র্যপ্রবণ ১০০ উপজেলায় সব বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্ত নারীকে বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্ত ভাতার আওতায় আনা হবে। এতে ৩ লাখ ৫০ হাজার নতুন উপকারভোগী যোগ হবে। এ খাতে ২১০ কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

২ লাখ ৫৫ হাজার নতুন ভাতাভোগী আসছেন প্রতিবন্ধী ভাতার আওতায়। এর ফলে প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীর সংখ্যা ১৮ লাখে উন্নীত হবে। এ খাতে অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজন হবে ২২৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

আগামী অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে মোট ৯৫ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে যা বাজেটের ১৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ এবং জিডিপির ৩ দশমিক শূন্য এক শতাংশ। চলতি অর্থবছরে সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ ছিল ৮১ হাজার ৮৬৫ কোটি টাকা।

বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা ও প্রতিবন্ধী ভাতার পরিসর বাড়ানোর পাশাপাশি সরকার সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর চলমান কর্মসূচিগুলোও বহাল রাখবে। দরিদ্র মায়ের জন্য মাতৃত্বকালীন ভাতা, কর্মজীবী ল্যাকটেটিং মাদার সহায়তা, ভিজিডি কার্যক্রম, মুক্তিযোদ্ধার সম্মানী ভাতা, অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান, বেদে ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে শিক্ষা উপবৃত্তি ও প্রশিক্ষণ, ক্যানসার, কিডনি, লিভার সিরোসিস রোগীদের সহয়তা ও চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

অর্থমন্ত্রী জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে গ্রামীণ দারিদ্র্য বিমোচনের কৌশল হিসেবে তৎকালীন ১৯টি থানায় পল্লী সমাজসেবা কার্যক্রম শুরু করেন। বর্তমানে দেশের সব জেলা ও উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে এ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। করোনাজনিত আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল করা এবং গ্রামে বসবাসরত দরিদ্র, দুস্থ ও অসহায় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য ১০০ কোটি টাকা প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় আরও জানিয়েছেন, জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তার কৌশলপত্রের আলোকে করোনা পরিস্থিতি হতে দরিদ্র মানুষদের উত্তরণের জন্য বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। বর্তমানে দেশের প্রায় এক-চতুর্থাংশ পরিবারকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে।

করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে সাধারণ ছুটি ঘোষণা, লকডাউন, শিল্পকারখানা ও ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ থাকার কারণে সাধারণ মানুষের আয় কমে সরকারের অর্জন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এ অবস্থা থেকে বের হয়ে আসার জন্য কর্মজীবী মানুষের কষ্ট লাগবে ৫০ লাখ পরিবারকে নগদ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।