রাস্তাঘাটের বেহাল দশায় ভোগান্তিতে দিনাজপুর পৌরবাসী

দিনাজপুর পৌরসভার রাস্তাঘাটের বেহাল দশায় ভোগান্তিতে পড়েছেন এখানকার পৌর এলাকার বাসিন্দারা। দিনাজপুর পৌরসভা প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ময়লা আবর্জনার স্তুপে পরিণত হয়েছে।

১৮৬৯ খ্রি. পহেলা এপ্রিল দিনাজপুর পৌরসভার কার্যক্রম শুরু হয়। পরে ৪ ডিসেম্বর ১৯৯০ সালে দিনাজপুর পৌরসভাকে  প্রথম শ্রেণির (ক শ্রেণি) পৌরসভাতে উন্নিত করা হয়। বর্তমানে ১২টি ওয়ার্ডে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ মানুষের বসবাস দিনাজপুর পৌরসভার মধ্যে।

দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কার না করায় শহরের কমবেশি সব রাস্তাই খানাখন্দে পরিণত হয়েছে। এতে পৌরবাসীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত মানুষদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। সরেজমিন শহরের বিভিন্ন রাস্তা ঘুরে চোখে পড়ে এমন চিত্র।

পৌরবাসীদের অনেকেই বলছেন, দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র বিএনপি থেকে নির্বাচিত হওয়ায় এবং স্থানীয় এমপি ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নির্বাচিত প্রার্থী হওয়ার কারণেই মতানৈক্যে মিলবন্ধন না থাকায় উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। একজন উন্নয়ন চাইলে আরেকজন বাধাগ্রস্থ করে বলেও জানানা অনেকেই।

এদিকে শহরের চৌরঙ্গী হতে বাস টার্মিনাল, থানা মোড় থেকে বড় বন্দর হয়ে মহারাজা মোড়, কালুর মোড় থেকে ছোটগুড়গুলা, নিমতলা হয়ে মালদহপট্টি, চৌরঙ্গী থেকে রামনগর, সুইহারী থেকে গোলাপবাগ, বালুয়াডাঙ্গা শহীদ মিনার মোড় থেকে চাউলিয়াপট্টি, নিউটাউন মসজিদ রোড, শিল্পাঞ্চল পুলহাটের রাস্তাসহ শহরের কমবেশি সব রাস্তার অবস্থাই বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। সড়ক গুলোর অনেক জায়গায় ভেঙে যাওয়ার ফলে যানবাহন চলাচলেও ব্যাপক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন চালক ও যাত্রীরা। একটু বৃষ্টি হলেই পৌরসভার বেশির ভাগ এলাকায় হাঁটু পানিতে তলিয়ে যায় রাস্তাঘাট। ড্রেনেজ ব্যবস্থার অকার্যকারিতা ও ময়লা আবর্জনার স্তুপে পুরো পৌর এলাকাই নর্দমায় পরিণত হয়েছে।

শুধু রাস্তাঘাটেরই এই অবস্থা নয়! শহরের বিভিন্ন জায়গায় অপরিকল্পিতভাবে ময়লার ডাস্টবিনের কারণে যেখানে সেখানে ময়লার স্তুপ জমে থাকে। দিনের পর দিন রাস্তায় ময়লা পরে থাকলেও পৌর কর্তৃপক্ষ সেগুলো না সরানোর কারণে বেশির ভাগ এলাকায় পরিবেশ দূষণসহ দুর্গদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে।

পৌরসভার ঘাসিপাড়া এলাকার মামুনুর রশিদ মামুন বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদি ধরে পৌরবাসী উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। আমরা নিয়মিত কর দেই কিন্তু রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থার এত বাজে অবস্থা যা একটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় কোনভাবেই কাম্য নয়। এর থেকে উপজেলার রাস্তাঘাট গুলোই ভালো আছে।’

চৌরঙ্গী এলাকার শাহিন আলম বলেন, ‘দিনাজপুর পৌরসভা প্রথম শ্রেণির একটা পৌরসভা। কিন্তু উন্নয়নের দিক থেকে এই পৌরসভা সবার থেকে পিছিয়ে। এখানকার পৌরসভার মেয়র বিএনপি থেকে নির্বাচিত আর এমপি হলেন আওয়ামী লীগের। এজন্য একজন উন্নয়ন চাইলে আরেকজন চায় না। মাঝখানে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে আমাদের। উন্নয়নের ক্ষেত্রে দল মত সবার ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করার প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি।’

রাস্তাঘাটের নাজুক অবস্থার কথা স্বীকার করে দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দিনাজপুর পৌরসভার মধ্যে ১২টি ওয়ার্ড আছে। বর্তমানে পৌরসভায় প্রায় সাড়ে ৪ লক্ষ মানুষের বসবাস। এতদিন দিনাজপুর পৌরসভায় তেমন কোন উন্নয়ন বাজেট আসেনি। আমি বিএনপি থেকে দুই বারের নির্বাচিত মেয়র। তাই এখানকার স্থানীয় কোনো এমপির সহযোগিতা পাইনি। অনেক কাঠখোর পুড়িয়ে বর্তমানে দিনাজপুর পৌরসভায় নগর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৭ কোটি টাকার কাজ চলমান আছে। এই প্রজেক্টের মধ্যে আরো ৮ কোটি টাকার কাজ হবে। এছাড়াও এমজিএসপি (মিউনিসিপ্যাল গর্ভন্যান্স এন্ড সার্ভিসেস প্রজক্ট) প্রকল্প থেকে ৩০০ কোটি টাকার বাজেট খুব শীঘ্রই আসবে। পৌরসভার রাস্তাঘাট ও সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য বন ও পরিবেশ বিভাগের আওতায় জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ড থেকেও ৩ কোটি টাকার বাজেট আমরা পাব।’