বাজেটের সুষ্ঠু বণ্টনের মাধ্যমে কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ে তোলার প্রচেষ্টার পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা খাতের বরাদ্দ এবং ব্যাপ্তি বাড়ানো প্রয়োজন। একই সাথে বিভিন্ন পেশাজীবী ও সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সমন্বিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাজেট প্রণয়ন করে পরিকল্পিত, সুষম ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।
শনিবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি) এর উদ্যোগে অনলাইনে আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২০-২১: পরিকল্পনাগত পর্যালোচনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বিশেষজ্ঞ ও পরিকল্পনাবিদগণ এসব অভিমত দেন।
বিআইপির সভাপতি অধ্যাপক আকতার মাহমুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত বাজেট পর্যালোচনা অনুষ্ঠানে জনস্বাস্থ্যকে প্রাধান্য দিয়ে নগর এলাকার স্বাস্থ্য অবকাঠামোর পুনর্গঠনের সাথে সাথে সার্বজনীন স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ প্রদান ও জাতীয় বাজেটে কৃষি, স্বাস্থ্য, আবাসন ও পরিবেশ সংশ্লিষ্ট খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি তুলে ধরেন আলোচকেরা।
ব্র্যাকের চেয়ারপারসন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান জাতীয় বাজেট ২০২০-২১ পর্যালোচনা করতে গিয়ে বাজেট প্রণয়নে বিদ্যমান দুর্বলতার কথা উল্লেখ করেন। করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য বিভাগের সক্ষমতার প্রকাশমান দুর্বলতাকে কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে কীভাবে কাটিয়ে ওঠা যায় সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে স্বাস্থ্য খাতের বাজেট প্রণয়ন এর কথা বলেন তিনি। এছাড়া নগরের প্রাথমিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ভঙ্গুর দশার কথা উল্লেখ করে জেলা শহরগুলোতে সদর এলাকায় উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্স স্থাপন করবার সাথে সাথে বড় শহরের বস্তি প্রবণ এলাকাগুলোতে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ বাজেট বরাদ্দের প্রস্তাবনা দেন বিশিষ্ট এই অর্থনীতিবিদ। বাজেটের সাহিত্য বুঝতে না পারলে শুধুমাত্র প্রবৃদ্ধিনির্ভর বাজেট জনকল্যাণ নিশ্চিত করতে পারবে না বলে অভিমত এ বিশেষজ্ঞ।
বিআইপি সাধারণ সম্পাদক পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক বৈষম্য কমানোর মাধ্যমে সুষম আঞ্চলিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বাজেট বরাদ্দের স্থান-কাল-পাত্রের নির্মোহ বিশ্লেষণ প্রয়োজন। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর অন্তর্ভুক্ত প্রকল্পসমূহের স্থানিক বিশ্লেষণ এবং প্রকল্প গ্রহণের আর্থ-সামাজিক-পরিকল্পনাগত বিশ্লেষণের মাধ্যমেই জনগণের করের টাকার প্রকৃত ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব।
ইউএনডিপি বাংলাদেশ এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক এবং পরিকল্পনা কমিশন এর উপ-প্রধান ড. মো. তৈয়বুর রহমান সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে নীতি ও কৌশল প্রণয়নে গুরুত্বারোপ করে বলেন, বাজেটের স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দকৃত অর্থের সঠিক বরাদ্দের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। একইসাথে বাজার ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হলে সার্বজনীন স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না বলে মত দেন তিনি।
বিআইপির সভাপতি অধ্যাপক আকতার মাহমুদ বলেন, বাজেটে অর্থ বরাদ্দের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা প্রস্তাবনার মাধ্যমে জনগণের জীবনমানের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের দিকে সরকার দৃষ্টি দেবে।