করোনা মোকাবিলায় জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তুলুন: সংসদে এমপি হারুন

করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির সংসদীয় দলের নেতা মো. হারুনুর রশীদ।

সোমবার সংসদ অধিবেশনে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এই আহ্বান জানান তিনি।

হারুনুর রশীদ বলেন, করোনাভাইরাস সারা পৃথিবীকে বিপর্যস্ত করে ফেলেছে। পৃথিবীর চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত। তাই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার অবশ্যই জাতীয় ঐকমত্য সৃষ্টির উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলে আশা রাখি। এই সময় জাতির মধ্যে থাকা ক্ষতগুলো দূর করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

আলোচনায় হারুনুর রশীদ আরও বলেন, ব্যাপক উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে আমরা সংসদে আসছি। রবিবারও দুজন মন্ত্রী-এমপি ইন্তেকাল করেছেন। সারা বিশ্ব নিঃসন্দেহে একটি কঠিন অবস্থায় পড়েছে।

হাসপাতালগুলোর দুরবস্থার কথা তুলে ধরে বিএনপির এই নেতা বলেন, এমপি-মন্ত্রীরা করোনায় আক্রান্ত হয়ে সরকারি হাসপাতালে যাচ্ছেন না। সিএমএইচ বা প্রাইভেট হাসপাতালে যাচ্ছেন। এটিই বাস্তবতা।

তিনি বলেন, এই দুর্বিষহ পরিস্থিতিতে দেশের স্বাস্থ্য খাতের অবস্থা কি? সরকারি হাসপাতালগুলোর কি অবস্থা? বিএসএমএমইউ'র মতো একটি স্পেশালাইজড হাসপাতাল সেখানে এখন পর্যন্ত করোনা চিকিৎসা চালু করা যায়নি, সেখানে আইসিইউ স্থাপন করা হয়নি। সেখানে কোনো পরীক্ষা নিরীক্ষা নেই। অথচ গণস্বাস্থ্যের মতো একটি প্রতিষ্ঠান কডিড-১৯ পরীক্ষার কিট উদ্ভাবন করেছে। সেই কিটের অনুমোদন দিচ্ছে না সরকার, কী কারণে দিচ্ছে না তারও কোনো ব্যাখ্যাও নেই। অনুমোদন দিতে কেন এত সময় লাগছে?

হারুনুর রশীদ বলেন, গণস্বাস্থ্য উদ্ভাবিত কিট অনুমোদন দিতে পারলে উপজেলা পর্যায়ে পরীক্ষা ছড়িয়ে দিতে পারতাম। করোনার নমুনা পরীক্ষার হার বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে হারুনুর রশীদ বলেন, ঘরে ঘরে উপসর্গ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বারবার বলছে, নমুনা পরীক্ষা হার বাড়াতে। আমরা ১৮ কোটি মানুষের দেশ, প্রতিদিন মাত্র ৮-১০ হাজার মানুষের নমুনা সংগ্রহ করছি, তার ফল প্রকাশ করছি। এটি খুবই সীমিত। এখন পর্যন্ত জেলা হাসপাতালগুলোতে কোনো ধরনের পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়নি। জেলাগুলো থেকে নমুনা সংগ্রহের ১০ দিন পর ফল প্রকাশ করা হচ্ছে। এটি দুঃখজনক।

বাজেট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে হারুনুর রশীদ বলেন, ২০২৯-২০২০ অর্থ বছরের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত রাজস্ব আহরণ করা হয়েছে ৩৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। আর প্রায় ৩৬ শতাংশ ব্যয় হয়েছে। অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আয়-ব্যয় প্রায় সমান। মার্চ থেকে সমস্ত কিছু বন্ধ।

তিনি বলেন, চলতি অর্থ বছরে ব্যাংকে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৮ হাজার কোটি টাকা, সেখান থেকে  প্রায় ৮৩ হাজার কোটি টাকার মতো ঋণ নিয়েছে সরকার। বৈদেশিক সাহায্যের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬৮ হাজার কোটি সেখানে পেয়েছে ৫৬ হাজার কোটি টাকা। বাকি টাকা কীভাবে সমন্বয় হবে বাজেটে তা বলা হয়নি।

অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপির সংসদীয় দলের নেতা বলেন, অর্থমন্ত্রী বলেছেন আগে খরচ করব, টাকা কোথা থেকে আসবে জানি না। একটি সাংবিধানিক দায়িত্ব থেকে এরকম বক্তব্য আসতে পারে না। বাজেট কী জন্য তাহলে? বাজেট দিয়েন না, টাকা খরচ করতে থাকেন। টাকা খরচ করার পর বাজেট দিয়েন।