মানিকগঞ্জের ৩ টি উপজেলার ৭টি রেডজোন এলাকায় লকডাউন কার্যকর করা হয়েছে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সোমবার রাত ৮ টা থেকে ওই সকল এলাকায় লকডাউন কার্যকর করা হয়। এই লকডাউন চলবে আগামী ৪ জুলাই পর্যন্ত। লকডাউন এলাকায় বন্ধ রয়েছে সকল দোকান পাট ও হাট বাজার।
মঙ্গলবার সকাল থেকে ঐসব এলাকায় জেলা, উপজেলা প্রশাসন সেই সাথে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।
রেডজোন এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে রয়েছে পুলিশী চেকপোস্ট। লকডাউনের সময় বিনা প্রয়োজনে বাড়ির বাহিরে আসলে জেরা মুখে পড়তে হচ্ছে । আবার অনেক স্থানে জরিমাণা করাছেন জেলা প্রশাসন।
রেডজোন এলাকাগুলো হলো মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার মানিকগঞ্জ পৌরসভার পশ্চিম দাশড়া, উত্তর সেওতা ও গঙ্গাধরপট্টি। ঘোষণা অনুযায়ী জেলা শহরের শহীদ রফিক সড়ক, গার্লস স্কুল সড়ক, গঙ্গাধরপট্টি থানা রোড, খালপাড় থেকে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডের আগ পর্যন্ত শহীদ স্মরণী ও মানিকগঞ্জ বাজার এলাকা থাকবে রেডজোনের আওতায়।
এছাড়া, রেডজোনের আওতায় পড়েছে সাটুরিয়া উপজেলার ধানকোড়া ও সাটুরিয়া ইউনিয়ন এবং সিংগাইর উপজেলার জয়মন্টপ ইউনিয়ন ও সিংগাইর পৌরসভা।
মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত রেডজোনের বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিন ঘুরে সকল দোকানপাট বন্ধ দেখা গেছে। তবে, জরুরি কাজে অল্প কিছু সংখ্যক জনগণকে বাইরে দেখা গেছে। এছাড়া রেডজোনের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। বাইরে থেকে কিছু মোটরসাইকেল ও যানবাহনগুলোকে আটকে দেওয়া হচ্ছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী রেডজোন ঘোষিত এলাকার কোন ব্যক্তি ঘর থেকে বের হতে পারবেন না। এই এলাকার কেউ বাইরে কিংবা বাইরের কেউ এই এলাকায় আসা যাওয়া করতে পারবেন না। সকল ধরণের শপিং মল, দোকানপাট বন্ধ থাকবে। রেডজোন এলাকায় অনুমোদনহীন কোন যানবাহন চলাচল করতে পরবে না।
মসজিদে নামাজের সময় ইমাম মোয়াজ্জিনসহ ৫ জন এবং জুমা‘র নামাজে সর্বোচ্চ ১০ জন থাকতে পারবেন। যথারীতি আওতামুক্ত থাকবে সাংবাদিকসহ জরুরী সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি, সরকারী ও ব্যাংকসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠান, শিল্প কারখানায় কমর্রত ব্যক্তি ও তাদের বহনকারী গাড়ী।
জেলা প্রশাসক এস এম ফেরদৌস বলেন, আদেশে বর্ণিত সকল আইন কঠোরভাবে পালন করা হবে। ঘোষিত এলাকাগুলির চারপাশে বেষ্টনির মাধ্যমে আটকে দেওয়া হবে। আদেশ অমান্যকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, আনসারসহ বিপুল সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক থাকবেন। প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ড কমিটির সাথে স্বেচ্ছাসেবীরা কাজ করবেন। প্রতিটি ওয়ার্ডে ভ্রাম্যমাণ দোকান থাকবে। কুইক রেসপন্স টিমের সদস্যরা বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ঔষধ পৌঁছে দিবে।