করোনা উপসর্গ নিয়ে ছোট ভাইয়ের পর বড় ভাইয়ের মৃত্যু

পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে করোনা উপসর্গ নিয়ে ছোট ভাই পল্লী চিকিৎসক নির্মল চন্দ্র দাসের (৬১) মৃত্যুর ৫ দিনের মাথায় বড় ভাই সুনীল চন্দ্র দাসের হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে। 

মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটায় জেলার আম্বিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ইন্দুরকানী উপজেলার চাড়াখালী গ্রামের বাসিন্দা পল্লী চিকিৎসক সুনীল চন্দ্র দাস (৬৫)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেলে শ্বাসকষ্ট নিয়ে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে আসে ইন্দুরকানী উপজেলার সুনীল চন্দ্র দাস। সেখান থেকে তাকে পিরোজপুর কভিড-১৯ ডেডিকেট আম্বিয়া হাসপাতালে পাঠানো হয়। রাতে সেখানে আইসোলেশন ওয়ার্ডে নেয়ার পর মারা যান সুনীল চন্দ্র দাস। পরে ঐ রাতেই বৃষ্টির মধ্যে ইন্দুরকানী থানা পুলিশের সহয়তায় তার মরদেহ সৎকার করা হয়। তবে এসময় কোনো স্বজন মরদেহের কাছে যাননি।

এর আগে গত বুধবার তার ছোট ভাই পল্লী চিকিৎসক নির্মল চন্দ্র দাস করোনা উপসর্গ থাকা অবস্থায় রাতে উপজেলা ইন্দুরকানী বাজারের নিজ বাসায় অসুস্থ হয়ে পড়লে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঐ দুই ভাই এক ভবনে বসবাস করতেন এবং পাশাপাশি তাদের চেম্বার ছিল। পল্লী চিকিৎসক নির্মল করোনা উপসর্গে মারা গেলে তার নমুনা নিতে বললে স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টির কোনো গুরুত্ব দেয়নি। পরে তিন দিন পর রবিবার ওই পরিবারের সুনিল ডাক্তারসহ ৮ জনের নমুনা সংগ্রহ করে উপজেরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। কিন্তু রিপোর্ট আসার আগেই পল্লী চিকিৎসক সুনীল করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেলেন।

এ দিকে স্থানীয়দের অভিযোগ ওই পরিবারের অন্য সদস্যদের করোনা উপসর্গ রয়েছে। কিন্তু নির্মল চন্দ্র মারা যাওয়ার পরেও ওই বাড়ি লকডাউন করেনি উপজেলা প্রশাসন।

এ ব্যাপারে ইন্দুরকানী বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, ওই পরিবারের অনেকেই জ্বর ও সর্দি নিয়ে কোনো নিয়ম না মেনে বাজারে ঘুরছে। মঙ্গলবার রাতে সুনীল দাস মারা যাওয়ার পর বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। 

বাজারের ব্যবসায়ীদের দাবি, ওই পরিবারসহ বাজার লকডাউন ঘোষণা করা প্রয়োজন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মুহাম্মদ মুজাহিদ আল মুজাহিদ জানান, বাজারে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে।