করোনার প্রভাব নিয়ে ৫৪ দেশের সংস্কৃতি মন্ত্রীদের ভার্চুয়াল কনফারেন্স

করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) বৈশ্বিক মহামারির প্রেক্ষিতে সংস্কৃতি খাতে এর প্রভাব নিয়ে ৫৪ দেশের সংস্কৃতি মন্ত্রীদের মধ্যে ভার্চুয়াল কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ইসলামিক বিশ্ব শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থার (আইসেস্কো) আয়োজনে বুধবার সন্ধ্যায় করোনার প্রভাব মোকাবিলায় টেকসই সাংস্কৃতিক কর্মপরিকল্পনা শীর্ষক ভার্চুয়াল এ কনফারেন্সে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশের সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ।

প্রতিমন্ত্রী রাজধানীর বেইলি রোডের মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্টের নিজ বাসভবন থেকে অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন 'জুম' এর মাধ্যমে এই ভার্চুয়াল কনফারেন্সে যুক্ত হন।

আইসেস্কো নির্ধারিত তিন মিনিটের বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাস সারা বিশ্বের রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতির বিভিন্ন সেক্টরে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনা সংকট মোকাবিলায় ইতোমধ্যে মোট দেশজ উৎপাদনের শতকরা ৩.৭ ভাগের সমতুল্য প্রায় ১২.১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একগুচ্ছ (১৯টি) আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। যেখান থেকে বেশ কিছু সংখ্যক ক্ষতিগ্রস্ত সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও প্রান্তিক শিল্পীদের উপকৃত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

এসব প্রণোদনা প্যাকেজ ছাড়াও ইতোমধ্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তহবিল হতে ক্ষতিগ্রস্ত সাংস্কৃতিক সংঘ, প্রতিষ্ঠান এবং শিল্পীদের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে এবং ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা (৩.৪৮ লাখ মার্কিন ডলার) ব্যয়ে বই ক্রয় করা হয়েছে, যা সংস্কৃতি খাতকে জোরদারকরণ ও পুনর্জাগরণে সহায়তা করবে।

লাইভ স্ট্রিমিং পারফরম্যান্স এবং ডিজিটাল কালচারাল ট্যুরিজম এর মাধ্যমে আমাদের ঐতিহ্যবাহী শিল্পকলাসমূহ এই সংকটে টিকে থাকবে বলে প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ডিজিটাল কালচারাল ট্যুরিজমের প্রসারে প্রত্নতাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যগত স্থাপনা এবং জাদুঘরসমূহে ভার্চুয়াল পরিদর্শন চালুর চিন্তাভাবনা করা যেতে পারে। ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্ম গুগল আর্ট অ্যান্ড কালচার ব্যবহার করে এসব স্থাপনা ও জাদুঘরসমূহের থ্রি-ডি ডকুমেন্টেশন তৈরি করা যাবে। এসব বাস্তবায়নে প্রথমত আমাদের প্রয়োজন সংস্কৃতি খাতে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ। দ্বিতীয়ত নতুন প্রযুক্তি ও প্রযুক্তিগত চর্চা গ্রহণকে আমাদের স্বাগত জানানো ও সমর্থন করা। তৃতীয়ত ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি ও ছড়িয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা করা।

 

সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংস্কৃতি ও জ্ঞান উন্নয়ন মন্ত্রী নাওরা আল কাবির সভাপতিত্বে তিন ঘটার এ বিশেষ ভার্চুয়াল কনফারেন্স পরিচালনা করেন আইসেস্কোর মহাপরিচালক ড. সেলিম এম আলমালিক। কনফারেন্সের উদ্বোধনী অধিবেশনে আরও বক্তব্য রাখেন ওআইসির সেক্রেটারি জেনারেল ড. ইউসুফ বিন আহমদ আল ওথাইমিন, মিগুয়েল অ্যাঞ্জেল মোরাটিনোস ও ইউনেস্কোর সংস্কৃতি বিষয়ক সহকারী মহাপরিচালক আর্নেস্টো অটোনে রেমিরেজ।

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বলেন, সংস্কৃতি খাতকে টিকিয়ে রাখতে আমরা বিভিন্ন সাহিত্য ও শৈল্পিক সৃজনশীলতা ভিত্তিক কিছু প্রকল্প নেয়ার চিন্তাভাবনা করছি। কিন্তু এর জন্য প্রয়োজন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা। ইউনেস্কো ও আইসেস্কো এক্ষেত্রে সামনে এগিয়ে এসে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার হাত সম্প্রসারিত করতে পারে। আমাদের প্রচেষ্টাকে একীভূতকরণের জন্য আমাদের উচিত আন্তঃরাষ্ট্রীয় সংলাপের সূচনা করা। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ সংকট মোকাবিলা করার মাধ্যমে আমাদের সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল খাতকে পুনরুদ্ধারের এখনই উপযুক্ত সময়।