করোনা আক্রান্তের সংখ্যায় বাংলাদেশ এখন বিশ্বে ১৭তম

করোনা ভাইরাসে (কভিড-১৯) আক্রান্তের সংখ্যায় বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশ এখন ১৭তম। এক লাখ কভিড-১৯ রোগী শনাক্তের দুঃখজনক মাইলফলকে পৌঁছানোর পথে বাংলাদেশ টপকে গেছে কানাডাকে।

বাংলাদেশে গত ৮ মার্চ প্রথম কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হওয়ার খবর জানায় আইইডিসিআর। এরপর বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে মোট ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৫০৩টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে।

বৃহস্পতিবারের বুলেটিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এ পর্যন্ত মোট ১ লাখ ২ হাজার ২৯২ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত করার কথা জানিয়েছে। তাদের মধ্যে মারা গেছেন ১ হাজার ৩৪৩ জন; আর ৪০ হাজার ১৬৪ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন।

জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় নিয়মিত যে পরিসংখ্যান প্রকাশ করছে, তাতে বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত বিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৮৩ লাখ ৭৫ হাজার ৩৬৮ জন। তাদের মধ্যে ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৫৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে; ৪০ লাখ ৯৬ হাজার ৯৭৪ জন সুস্থ হয়েছেন।

এ পর্যন্ত মোট ১৮টি দেশের সরকার এক লাখের বেশি রোগী শনাক্তের তথ্য দিয়েছে। এ তালিকায় সবার উপরে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জানুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে সেখানে প্রথম রোগী শনাক্তের পর এ পর্যন্ত সেখানে ২১ লাখ ৬৩ হাজার ২৯০ জনের সংক্রমণ ধরা পড়েছে।

৯ লাখ ৫৫ হাজার ৩৭৭ জন শনাক্ত রোগী নিয়ে এই তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিল। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সেখানে প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ে। এক মাসের মাথায় তা ৫ হাজার ছাড়ায়।

তৃতীয় অবস্থানে থাকা রাশিয়ায় সংক্রমণের প্রথম খবর আসে ৩১ জানুয়ারি। দেশটিতে এখন শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৫ লাখ ৬০ হাজার ২৭৯ জন।

চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে ভারত; সেখানে প্রথম রোগী শনাক্ত হয় ৩০ জানুয়ারি। এখন ভারতে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৩ লাখ ৬৬ হাজার ৯৪৬ জন।

পঞ্চম স্থানে থাকা যুক্তরাজ্যে এখন আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখ ৭১৭ জন।

করোনাভাইরাসের সংক্রমনে বিপর্যস্ত দেশ স্পেন ২ লাখ ৪৪ হাজার ৬৮৩ জন এবং ইতালি ২ লাখ ৩৭ হাজার ৮২৮ জন শনাক্ত রোগী নিয়ে যথাক্রমে তালিকার ষষ্ঠ ও অষ্টম স্থানে রয়েছে।

এ দুই ইউরোপীয় দেশের মাঝে রয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার পেরু, সেখানে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ২ লাখ ৪০ হাজার ৯০৮ জন। এছাড়া দক্ষিণ আমেরিকার আরেক দেশ চিলিতে ২ লাখ ২০ হাজার ৬২৮ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে এই নয়টি দেশেই শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দুই লাখের বেশি।

এক লাখের ঘরে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের উপরে আছে ইরান, ফ্রান্স, জার্মানি, তুরস্ক, পাকিস্তান, মেক্সিকো ও সৌদি আরব। আর বাংলাদেশের পরে আছে কানাডা, সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ১ হাজার ৪৯১ জন। 

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে ভারতে। তারপর ১ লাখ ৬০ হাজার ১১৮ জন শনাক্ত রোগী নিয়ে পাকিস্তান আছে তালিকার ১৪ নম্বরে। দক্ষিণ এশিয়ায় এরপরই বাংলাদেশের অবস্থান।

এ অঞ্চলে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে ভুটান, ৬৭ জন রোগী নিয়ে দেশটির অবস্থান তালিকার ১৭০ নম্বরে। এছাড়া ১৯২৬ শনাক্ত রোগী নিয়ে শ্রীলঙ্কা ১০০ নম্বরে, ২১২০ রোগী নিয়ে মালদ্বীপ ৯৮ নম্বরে, ৭৮৪৮ জন রোগী নিয়ে নেপাল ৬৯তম অবস্থানে এবং আফগানিস্তান ২৭ হাজার ৫৩২ জন রোগী নিয়ে তালিকার ৩৯ নম্বরে ছিল তখন।

গত বছরের ডিসেম্বরের শেষে চীনের উহান থেকে নতুন এই করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছিল। নানা কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে এপ্রিলের শুরুতেই চীন পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে।

চীনে এ পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৮৪ হাজার ৪৬২ জন, তালিকায় দেশটির অবস্থান এখন কানাডার পরে, ১৯ তম।

৫ দিনের শনাক্ত রোগীর হারের গড় ধরে জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় পরিস্থিতির চিত্র বোঝার চেষ্টা করে।

তাতে দেখা যায়, আক্রান্তের সংখ্যায় উপরের দিকে থাকা দেশগুলোর মধ্যে ব্রাজিল, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, মেক্সিকো, পেরু, চিলি, পাকিস্তান, মিশর, দক্ষিণ আফ্রিকা, কলম্বিয়া, ইরাক, ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ, একুয়েডর ও সৌদি আরবে সংক্রমণ এখনও বাড়ছে। আর রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, ইরান, ইতালি, কানাডায় গ্রাফ নিম্নমুখী হয়েছে।