শেকৃবির ফাঁকা ক্যাম্পাসে সৌন্দর্য বর্ধনের নামে গাছ নিধন!

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে ছুটির কারণে যখন ক্যাম্পাস ফাঁকা, ঠিক তখনই বৃক্ষ নিধনের উপযুক্ত সময় বেছে নিয়েছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি) কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ কর্মচারী-কর্মকর্তারা।

তারা বলছেন, গাছগুলো কেটে ফেলায় কেবল সৌন্দর্যহানিই ঘটেনি, ক্যাম্পাসের চিরচেনা রূপও হারিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবন থেকে লাইব্রেরির পথ ধরে হলের সামন পর্যন্ত সড়কের দুপাশ ছিল সাজানো-গোছানো শতাধিক দেবদারুর গাছ। অন্তত ২৫-৩০ বছর ধরে মোহনীয় সৌন্দর্য ছড়াচ্ছিল এই গাছগুলো, যা ক্যাম্পাসের অন্যতম সৌন্দর‌্য হিসেবে পরিগণিত হতো। কিন্তু গত এক বছর আগে রাস্তা প্রশস্তের অজুহাত দেখিয়ে এক পাশের গাছ কর্তন করার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। কিন্তু ছাত্রদের দাবির মুখে রাস্তা সোজা করার জন্য একাডেমিক ভবনের পাশের ৪টি গাছ কেটেই সিদ্ধান্তটি বাতিল করা হয়।

কিন্তু হঠাৎ গতকাল থেকে প্রশাসনিক ভবনের সামনের এক পাশের সব দেব দারুর কাজ কাটা শুরু হয়েছে। ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে ফেইসবুকে প্রতিবাদের ঝড় তুলেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ প্রকৃতিপ্রেমীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকরা বলছেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মোড়ানো ক্যাম্পাসটি সবার কাছে ঢাকার ছোট্ট গ্রাম নামে পরিচিত ছিল কিন্তু ধীরে ধীরে তা হারাতে বসেছে। বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ ও উন্নয়নের নামে বেশ কিছুদিন ধরেই বৃক্ষ নিধন চলছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্লানিং বিভাগের প্রধান আবুল কালাম আজাদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি গাছ কাটার বিষয়ে কিছু জানি না  তবে চিফ ইঞ্জিনিয়ার আজিজুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, রাস্তা প্রশস্তকরণ ও প্রশাসনিক ভবনের সামনে মনুমেন্ট দৃশ্যমান করার জন্য ভিসি স্যারের অনুমতি নিয়েই কয়েকটি গাছ কাটা হয়েছে তবে অন্য গাছ এখন কাটার আর পরিকল্পনা নাই।

তবে শিক্ষার্থীদের ধারণা প্রতিবাদ এড়াতে পরিকল্পিত ভাবে বন্ধের মধ্যে গাছগুলো কেটে ফেলবে প্রশাসন, এর আগেও একইভাবে বিশ্ববিদ্যালয়টির অন্যতম স্থাপনা লাভ টাওয়াটি খোরা অজুহাতে বন্ধের মধ্য ভেঙে ফেলা হয়েছিল।