তিন দিন বন্ধ থাকার পর ফের গতকাল শুক্রবার বিকেল থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে মাদার ভেসেল (বড় জাহাজ) থেকে লাইটারেজে পণ্য খালাস শুরু হয়েছে। তবে এই তিন দিনে বন্দরের কোনো বার্থিং মিটিং না হওয়ায় আগের শিডিউলের জাহাজগুলোই বহির্নোঙরে গিয়েছে।
ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেল (ডব্লিউটিসি) সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার বার্থিং কমিটির মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। যেসব লাইটারেজ জাহাজের শিডিউল দেওয়া হয়েছিল সাগর উত্তাল থাকার কারণে এর মধ্যে অনেক লাইটারেজ পণ্য খালাসে বহির্নোঙরে যেতে পারেনি। যেগুলো গিয়েছে, সেগুলোও পণ্য খালাস করতে না পেরে ওই সময় ফিরে এসেছে। এরপর গত বুধ ও বৃহস্পতিবার থেমে থেমে বৃষ্টির পাশাপাশি সাগরে প্রচণ্ড ঢেউ থাকায় ডব্লিউটিসির লাইটারেজ জাহাজগুলো বহির্নোঙরে যায়নি।
চট্টগ্রাম বন্দর সূত্র জানায়, বৈরী আবহাওয়ার কারণে ডব্লিউটিসির বরাদ্দ করা অধিকাংশ লাইটারেজ জাহাজ যেতে না পারায় বুধ ও বৃহস্পতিবার বহির্নোঙরে মাদার ভেসেল থেকে পণ্য খালাস ব্যাহত হয়। তবে এর মধ্যেও বিভিন্ন শিল্প গ্রুপ নিজস্ব কিছু লাইটারেজে তাদের আমদানি করা পণ্য খালাস করেছে। আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় গতকাল বিকেল থেকে আবারও বহির্নোঙরে পণ্য খালাস শুরু হয়েছে।
লাইটারেজ জাহাজ মালিকদের সংগঠন ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট সেলের (ডব্লিউটিসি) নির্বাহী পরিচালক মাহবুব রশিদ খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, মঙ্গলবারের পর আর কোনো বার্থিং মিটিং হয়নি। তাই নতুন করে কোনো লাইটারেজ বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। মঙ্গলবারের বরাদ্দ দেওয়া জাহাজগুলোই এখন বহির্নোঙরে যাচ্ছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের গতকালের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বহির্নোঙরে কনটেইনার জাহাজ ও অয়েল ট্যাংকার ছাড়া আরও ৩০টি মাদার ভেসেল পণ্য খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৬টি সাধারণ পণ্যবাহী, ৮টি খাদ্যশস্যবাহী, ৫টি সিমেন্ট ক্লিংকারবাহী ও ১টি চিনিবাহী জাহাজ। এ ছাড়া বন্দর জেটিতে পণ্য খালাসরত অবস্থায় ১২টি জাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৬টি কনটেইনার জাহাজ ও ৬টি সাধারণ পণ্যবাহী জাহাজ।
সাধারণত বেশি ড্রাফটের যেসব জাহাজ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি পণ্য নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আসে, সেগুলো বহির্নোঙরেই অবস্থান করে। এর মধ্যে অধিকাংশ জাহাজ বহির্নোঙরে লাইটারেজ জাহাজে পণ্য খালাস করে চলে যায়। আর কিছু জাহাজ বহির্নোঙরে পণ্য কমিয়ে তারপর বন্দর জেটিতে বার্থিং নেয়। মাদার ভেসেল থেকে পণ্য নিয়ে লাইটারেজ জাহাজগুলো কর্ণফুলী নদীর বিভিন্ন ঘাট, বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত জেটি ছাড়াও আমদানিকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্ধারিত গন্তব্যে চলে যায়।
বার্থিং মিটিংয়ের মাধ্যমে আমদানিকারকদের চাহিদা অনুযায়ী লাইটারেজ জাহাজ বরাদ্দ দেয় ডব্লিউটিসি। প্রতিদিন ডব্লিউটিসি কার্যালয়ে এ বার্থিং মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে বহির্নোঙরে পণ্য খালাসের মতো পরিস্থিতি না থাকায় তিন দিন ধরে কোনো বার্থিং মিটিং হয়নি।
চট্টগ্রাম বন্দর লাইটারিং ঠিকাদার সমিতির সভাপতি হাজি শফিক আহমদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, সাগর উত্তাল থাকলেও অনেক সময় লাইটারেজ জাহাজগুলো বহির্নোঙরে যায়। কিন্তু বৃষ্টি থাকলে বড় জাহাজ থেকে পণ্য লাইটারিং করা সম্ভব হয় না। বুধ ও বৃহস্পতিবার বৈরী আবহাওয়ার কারণে কোনো লাইটারেজ জাহাজ বহির্নোঙরে যেতে পারেনি।