ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত ৮টা ২০ মিনিট। হঠাৎ আইসি চামটাঘাটের মোবাইল ফোনে জরুরি সেবা ৯৯৯ থেকে কল। দ্রুত রিসিভ করলেই অপর প্রান্ত থেকে জানানো হয়, কিছু যুবক কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার চামটাঘাটে বিপদগ্রস্ত। তাদের সাহায্য প্রয়োজন।
এরপর সময় ক্ষেপণ না করে দ্রুত বিপদাক্রান্ত তরুণদের ফোন করে আইসি চামটাঘাট। সঙ্গে সঙ্গে নৌ পুলিশ চামটাঘাট সদস্যরা অভিযানে নামে যুবকদের উদ্ধার করতে।
অনেক চেষ্টার পর চামটাঘাট নৌ পুলিশ স্টেশন মোখলেস (২১), শিপন মিয়া (২১) ও ইয়াসীন (১৯) নামে ওই তির তরুণকে উদ্ধার করে। নিরাপদে ফিরিয়ে দেয় তাদের বাবা মা ও আত্মীয় স্বজনদের কাছে।
শনিবার সকালে কথাগুলো দেশ রূপান্তরকে বলছিলেন নৌ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরিদা পারভীন।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে বলেন, হট লাইন ৯৯৯ থেকে কল পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে নৌ পুলিশ চামটাঘাট সদস্যরা বেরিয়ে পড়ে যুবকদের উদ্ধার করতে। যে মোবাইল নম্বরটি দেয়া হয়েছিল, তাতে ফোন করে শুনতে পায় কাঁদো কাঁদো কণ্ঠ। ভয় আর বিপদের আশঙ্কায় ঠিকভাবে কথা বলতেও পারছিল না। কোনোভাবে মোখলেস নামের তরুণ জানায়, তারা নদী মধ্যে আছে এবং তীর কোন দিকে বুঝতে পারছে না। এদিকে নৌকার ইঞ্জিনটাও নষ্ট হয়ে গেছে। ওদিকে ডাকাতির ভয়ে তাদের প্রাণ যায় যায় অবস্থা।’
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরিদা পারভিন বলেন, ‘তারুণ্যকে ঘরে বেঁধে রাখতে পারেনি কিশোরগঞ্জের ফিরোজা মেডিকেল ইন্সটিটিউটের পড়া কিছু ছাত্র। করোনার সময়ও নদী এবং নদীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ডেকেছিল হাতছানি দিয়ে। তাদের প্রস্তুতি ছিল সিংপুর যাওয়ার। কিন্তু বিপত্তি ঘটে তখনই যখন মাঝ নদীতে নৌকা নষ্ট হয়ে যায় এবং পথও হারিয়ে ফেলে তারা। কোনোভাবেই সঠিক জায়গা বলতে পারছিল না যুবক। আবার জিজ্ঞেস করা হয়েছিল- তারা কী দেখতে পাচ্ছে যা বেশ দূর থেকে দেখা যায়? উত্তরে জানায় একটি ব্রিজ। চামটাঘাট নৌ পুলিশ স্টেশনের টিম আন্দাজ করে নেয়, বরহাটি হাওরের ব্রিজ হবে হয়তো। আবার নৌকা ঘোরায়। ব্রিজের কাছাকাছি পৌঁছে কিছু দেখতে পায় না। চারদিকে অন্ধকার। রাত যত গভীর হচ্ছে ডাকাতের ভয়ও তত বেড়ে যাচ্ছে। এদিকে ওই মোবাইলফোনে কল করে এবার মোবাইলফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তাহলে এখন খুঁজে বের করবে কী করে?’
সিগন্যাল লাইট দিয়ে ইশারা করে এবার নৌ পুলিশ সদস্যরা। তবুও কোনো সাড়া নেই। এবার বাঁশি ফুঁকে এবং হুইসেল দেয়। তবুও কোনো উত্তর পায় না নৌ পুলিশ সদস্যরা।
আরও কাছে যায় ব্রিজের এবং হেলার দিয়ে বলতে থাকে আমরা নৌ পুলিশ। আপনাদের বন্ধু। যদি আমাদের শুনতে পান, তাহলে দয়া করে সাড়া দিন। এবার হালকা চিৎকার শুনতে পায়। কাছে যেতেই দেখা মেলে হারিয়ে যাওয়া তরুণদের। যারা ভয়ে, শঙ্কায় ও দিকভ্রান্ত হওয়ার পর উদ্ধারের আশায় কেঁদে-কেটে একাকার।
তাদেকে উদ্ধার করে নিরাপদে ফিরিয়ে দেওয়া হয় তাদের বাবা মা ও আত্মীয় স্বজনদের কাছে।