মহামারিকালে সুচিকিৎসা নিশ্চিতে এফডিএসআরের ১০ দফা দাবি

করোনা মহামারির সময়ে মানুষের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে ও চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও কর্মক্ষেত্রকে নিরাপদ করতে চিকিৎসদের সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি, রাইটস অ্যান্ড রেসপন্সিবিলিটিজ (এফডিএসআর) ১০ দফা দাবি প্রস্তাব করেছে।

সংগঠনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আবুল হাসনাত মিল্টন ও মহাসচিব ডা. শেখ আব্দুল্লাহ আল মামুন শনিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি প্রস্তাব করেন।

দাবিগুলো হলো-

১. করোনা মোকাবিলায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শগুলো অতি দ্রুত বাস্তবায়ন করা এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর পদ্ধতি উদ্ভাবন এবং প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নেতৃত্বে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি করে তাদের সুপারিশগুলো সময় বেঁধে দিয়ে বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে সব ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

২. করোনা মোকাবিলায় সফল দেশগুলির উদাহরণ আমাদের সামনে আছে। প্রয়োজনে সেই দেশগুলি থেকে সহায়তা নিতে হবে।

৩. একই শহরের ভেতরে তিন রঙের জোন না করে বরং পুরো শহর / (জেলা) যেমন ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, গাজিপুর, চট্টগ্রামসহ হটস্পট শহর/জেলাসমূহে কঠোরভাবে চার সপ্তাহের জন্য সম্পূর্ণ লকডাউন করতে হবে। এসময়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবকবৃন্দ, প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে। দরিদ্র এবং চিকিৎসা সেবা প্রত্যাশী মানুষ যেন কষ্ট না পায়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। যতটা সম্ভব টেস্ট করতে হবে। চার সপ্তাহের শেষদিকে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে লকডাউনের পরবর্তী সম্প্রসারণের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

৪. কভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়ে যে সব ডাক্তাররা ইতিমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন, তাদের প্রণোদনার অর্থ দ্রুত প্রদান করবার জন্য সরকারকে অনুরোধ করছি। কোভিড-১৯ এ মৃত্যুবরণকারী বেসরকারি ডাক্তারদের জন্যও প্রণোদনা প্রদানের দাবি জানাচ্ছি।

৫. কর্মক্ষেত্রে চিকিৎসকসহ সকল স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবার লক্ষ্যে ‘চিকিৎসকসহ সকল স্বাস্থ্যকর্মী সুরক্ষা আইন’ প্রণয়ন। এর সাথে কোন ক্লিনিক, প্যাথোলজি ল্যাব বা ব্যবসা পরিচালনাকে সংযুক্ত না করে, কেবল স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা বিধান করুন। সেইসাথে আমাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত ‘হেলথ পুলিশ’ গঠন এখন সময়ের দাবি।

৬. কর্মক্ষেত্রে চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে মানসম্মত ‘ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সামগ্রী’ বা পিপিই প্রদান করতে হবে। পিপিইর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করে তা সহজলভ্য করতে হবে ও মুনাফালোভীদের অসাধু ব্যবসার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

৭. সকল চিকিৎসকের ন্যায্য বেতন–ভাতা নিশ্চিত করতে হবে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজে বেতন ও বোনাস কর্তন, অন্যায় ছাঁটাই বন্ধ করতে হবে। কম বেতন দিয়ে অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা কাজ করানো বন্ধ করতে হবে।

৮. জনগণের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য খাতকে ঢেলে সাজাবার লক্ষ্যে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচী গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি মেডিকেল শিক্ষাকেও আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে হবে।

৯. সারাদেশে দরিদ্রদের মধ্যে এবং চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও অন্যান্য সম্মুখযোদ্ধাদের জন্য বিনা মূল্যে ও অন্যদের জন্য ন্যায্যমূল্যে মাস্ক, সাবান ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করতে হবে।

১০. করোনা মোকাবিলায় প্রতিটা মানুষের স্বাস্থ্যবিধি ও সরকারের আদেশ মেনে চলাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্য খাতের বিরাজমান অব্যবস্থা জনগণের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবার প্রতি অবিশ্বাস ও অনাস্থা তৈরি করছে। স্বাস্থ্য খাতের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের গণমাধ্যমে স্ববিরোধী বক্তব্য মানুষকে হতাশ করে এবং এ কারণেই জনগণ লকডাউনসহ নানা বিষয় অমান্য করে। কারণ তারা আস্থাহীনতায় ভুগছে।