ফাঁকা ক্যাম্পাসে চলছে বৃক্ষনিধন

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে ছুটির কারণে যখন ক্যাম্পাস ফাঁকা, ঠিক তখনই যেন বৃক্ষনিধনের উৎসবে মেতেছে রাজধানীর শের-ই-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি) কর্র্তৃপক্ষ। অল্প সময়ের মধ্যেই বিভিন্ন অজুহাতে নানা প্রজাতির প্রায় দুই শতাধিক গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে শেকৃবি প্রশাসনের বিরুদ্ধে। প্রতিবাদ এড়াতে পরিকল্পিতভাবে অল্প অল্প করে গাছগুলো কাটা হয়। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা- কর্মচারীরা। তারা বলছেন, গাছগুলো কেটে ফেলায় কেবল পরিবেশেরই অপূরণীয় ক্ষতি হয়নি, সৌন্দর্যহানির পাশাপাশি ক্যাম্পাস তার চিরচেনা রূপও হারিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকরা বলছেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মোড়ানো ক্যাম্পাসটি সবার কাছে ঢাকার ছোট্ট গ্রাম নামে পরিচিত ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে তা আগের রূপ হারাতে বসেছে। বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ ও উন্নয়নের নামে বেশ কিছুদিন ধরেই বৃক্ষনিধন চলছে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে গাছ কর্তন কমিটি থাকলেও তারা এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্ল্যানিং বিভাগের প্রধান আবুল কালাম আজাদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি গাছ কাটার বিষয়ে কিছু জানি না।’

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী আজিজুর রহমান গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রাস্তা প্রশস্তকরণ ও প্রশাসনিক ভবনের সামনে মনুমেন্ট দৃশ্যমান করার জন্য ভিসি স্যারের অনুমতি নিয়েই কয়েকটি গাছ কাটা হয়েছে। অন্য গাছ এখন কাটার আর পরিকল্পনা নেই।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক ও গবেষক প্রফেসর জামাল উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ গাছগুলো কাটা ভুল হয়েছে, গাছ না কেটেও উন্নয়ন করা যেত। সবাই প্রকৃতির জন্য আমাদের এই ক্যাম্পাসকে পছন্দ করে, আমরা যে কৃষিবিদ, সে জায়গাটা আমরা নষ্ট করে ফেলেছি।’

গাছ কাটার কারণ জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. কামাল উদ্দিন আহমদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কাজের প্রয়োজনে উন্নয়নের স্বার্থে এবং সর্বোপরি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থেই গাছগুলো কাটা হয়েছে।’